টানা দেড় ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীরা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে নগরীর ঐতিহ্যবাহী ঈশ্বর পাঠশালা স্কুল পরীক্ষা কেন্দ্রে, যেখানে হাঁটু সমান পানির মধ্যেই এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সকালে শুরু হওয়া বৃষ্টি নগরীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি জমিয়ে দেয়। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের বিপরীতে অবস্থিত ঈশ্বর পাঠশালা স্কুলের নিচতলার কয়েকটি কক্ষে পরীক্ষা চলাকালীন পানি ঢুকে পড়ে। অনেক পরীক্ষার্থী বেঞ্চের ওপর পা তুলে বসে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, পরীক্ষা কক্ষের মেঝেতে জমে থাকা নোংরা পানির মধ্যেই শিক্ষার্থীরা খাতা লিখছে। অনেকের পোশাক ভিজে যায়। খাতা ও প্রশ্নপত্র ভিজে যাওয়ার শঙ্কায় উদ্বেগে ছিল পরীক্ষার্থীরা।
পরীক্ষার্থীরা জানায়, এমন পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। দীর্ঘ সময় পানির মধ্যে বসে থাকায় অনেকের পা অবশ হয়ে আসে এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হয়।
অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ একাধিক অভিভাবক বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া দুঃখজনক। শিক্ষা বোর্ডের পাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাও ঘটে। কয়েকটি কেন্দ্রে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা করে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঈশ্বর পাঠশালা স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুধাংশু কুমার মজুমদার বলেন, আকস্মিক ভারী বৃষ্টির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অসুবিধা কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার জেলায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে জলাবদ্ধতার বিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, নগরীর যেসব এলাকায় পানি জমছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে












