টানা কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লার ১৭ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ অবকাঠামো ভেঙে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।
মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত কয়েক দফা ঝড় ও বৃষ্টিতে জেলার কৃষি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১ হাজার ৭৩৩ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া ৫৫০ হেক্টর ভুট্টা, ২৩৫ হেক্টর আউশ ধানের বীজতলা এবং ৩৬৪ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি নষ্ট হয়েছে।
লাকসাম, দাউদকান্দি, নাঙ্গলকোট, দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়।
অন্যদিকে ঝড়ের তাণ্ডবে জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়া গাছ বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে বহু স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। এতে অন্তত ২৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।


এ পর্যন্ত ৩৫টি ট্রান্সফরমার বিকল, ৭১টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যাওয়া এবং প্রায় ৫৫০টি গ্রাহক মিটার নষ্ট হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি ও লাইনের মেরামত কাজ শুরু করলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সময় লাগছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।












