টানা দুই বছরের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ফেনীর মানুষ। এরই মধ্যে নতুন বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় জেলার উত্তরাঞ্চলে আবারও বন্যা ও প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর ভাঙা বাঁধের বহু অংশ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের অনেক অংশ এখনো পুরোপুরি মেরামত হয়নি। কোথাও কোথাও দায়সারা কাজ করা হয়েছে বলেও দাবি তাদের। এতে সামান্য বৃষ্টি কিংবা উজান থেকে পানি নামলেই নতুন করে জনপদ প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরশুরাম উপজেলার সীমান্তবর্তী মনিপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত দুই দফার বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি, ফসল ও খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু এবারও বর্ষা শুরুর আগেই টেকসই সংস্কার না হওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বাঁধের শতাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষিজমি, বসতঘর ও অবকাঠামো।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, নদী খনন ও বাঁধ শক্তিশালী করার স্থায়ী উদ্যোগ না থাকায় প্রতি বছর একই দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, বরাদ্দের তুলনায় মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি খুবই কম।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কয়েক কোটি টাকার সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও বড় প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় নতুন প্রকল্পেও বাঁধ সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফেনীর ১২২ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙন ও সংস্কারের চক্রে রয়েছে। প্রতি বর্ষায় আতঙ্কে থাকা নদীতীরের মানুষের দাবি, সাময়িক নয়—স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করুক সরকার।














