টানা কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লাজুড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার পর্যন্ত অব্যাহত ঝড়-বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার জেলায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৬ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে ঝড়ো হাওয়াও অব্যাহত রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঝড় ও বৃষ্টিতে জেলার ১৭ উপজেলায় অন্তত ১ হাজার ৭৩৩ হেক্টর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ভুট্টা, গ্রীষ্মকালীন সবজি ও তিলের খেতে। যদিও অধিকাংশ বোরো ধান পেকে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘসময় জমিতে পানি জমে থাকলে ধান পচে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কৃষকদের ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই কাটার পরামর্শ দেওয়া হলেও অনেকে শতভাগ পাকার অপেক্ষায় থাকেন, ফলে ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে পড়েন।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে শতাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে, অর্ধশতাধিক ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে এবং প্রায় দেড় হাজার স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এতে জেলার অধিকাংশ এলাকা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎহীন রয়েছে।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান জানান, রোববারের ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতের পর মঙ্গলবারের নতুন ঝড়ে আবারও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জনবল সংকট থাকায় স্বাভাবিক সংযোগ ফিরিয়ে আনতে সময় লাগছে।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। কোথাও মোমবাতি ও চার্জার লাইটের আলোতে পরীক্ষা নিতে হয়েছে, আবার কোথাও শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় পানির মধ্যেই পরীক্ষা দিতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।
কুমিল্লা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান বলেন, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টাও ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে। তিনি অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু দাবি করেছেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। তিনি জানান, নগরীর খাল ও নালাগুলো পরিষ্কারের কাজ চলমান রয়েছে।












