আব্দুল্লাহ, কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ১৭ জন শিক্ষক প্রথমবারের মত পেয়েছেন ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড।বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) বিকাল ৫ টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নং কক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন-এর সভাপতিত্বে এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক অমিত দত্ত ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শারমিন সুলতানা’র সঞ্চালনায় এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে সম্মানী এবং সনদ তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধাণ অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি।
ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ডের জন্য জেনারেল, স্পেশাল ও গবেষক এই তিন ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছেন শিক্ষকরা। যেখানে ২০২১-২২ বর্ষে ‘হাই ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর জার্নাল’ গুলোর ভিত্তিতে ১৭ জন শিক্ষককে মনোনীত করা হয়েছে।
জেনারেল ক্যাটাগরীতে মনোনীত হয়েছেন ১০ জন।তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পার্থ চক্রবর্তী এবং সহকারী অধ্যাপক মেশকাত জাহান, ফার্মেসী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রদীপ দেবনাথ এবং প্রভাষক সাদিয়া জাহান, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আবদুল মাজেদ পাটোয়ারী এবং সহকারী অধ্যাপক শারমিন আক্তার রূপা, গণিত বিভাগের অধ্যাপক মোঃ আবদুল হাকিম, পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফয়েজ আহম্মেদ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মিঠুন কুমার দাস এবং একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
স্পেশাল ক্যাটাগরীতে মনোনীত হয়েছেন ৪ জন।
মনোনীত শিক্ষকরা হলেন, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ শরীফ হোসেন, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিউল্লাহ, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. স্বপন চন্দ্র মজুমদার এবং একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন।
সর্বশেষ গবেষক ক্যাটাগরীতে মনোনীত হয়েছেন ৩ জন।তারা হলেন, ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ খলিলুর রহমান এবং একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ গবেষণা কাজের জন্য এরকম একটি অ্যাওয়ার্ড অবশ্যই আমাকে আনন্দিত করেছে এবং সামনে আরও কাজ করার জন্য অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
আমার সাথে আমার অন্যান্য যে সহকর্মীরা অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত হয়েছেন তাদেরকেও অভিনন্দন। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা এরকম একটি উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। আশা করি সামনেও এরকম উদ্যোগ গুলো চলমান থাকবে সেই সাথে আমরা যারা গবেষণার কাজে যুক্ত আছি তারাও আরও ভালো ভালো কাজ বিশ্ববিদ্যালয়কে উপহার দিতে পারবো।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত আনন্দের দিন কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে এমন শিক্ষকদের জন্য আজকে দীপু মনি উপস্থিত হয়েছেন প্রথম বারের মত। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে গুণগত মান সম্পন্ন করার জন্য অ্যাকাডেমিক প্লানে দৃষ্টিপাত করছেন। আজকে যেমন তাকে আমরা আমাদের পাশে পেয়েছি সামনেও পাবো বলে আশা করি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি (এমপি) বলেন, আজকের এ অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আনন্দিত।
কুমিল্লা অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী একটি অঞ্চল, কুমিল্লা অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং জ্ঞানীদের জন্য ঐতিহ্য মন্ডিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ জ্ঞান সৃষ্টি ও চর্চার ফল। এই অ্যাওয়ার্ড এই উদ্যোগের জন্য মাননীয় উপাচার্য কে ধন্যবাদ। আশা করি সামনেও এটি বলবৎ থাকবে। গুচ্ছ পরীক্ষার প্রাপ্ত অর্থ শিক্ষার্থীদের স্কলারশীপ দেয়ার মত একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্য আবারও ধন্যবাদ।
আমরা চাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলে প্রকৃত জ্ঞান সৃষ্টি এবং চর্চার জায়গা হয়ে উঠুক। আমরা দেশ গড়ার স্লোগান শুনতে চাই, অমুক ভাই এর জন্য ধন্য- এসব না।
লাইব্রেরী যেন শুধু বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি কেন্দ্র না হয়। যে যত ভালো অবস্থানেই যান একজন ভালো মানুষ হতে হবে, শত ত্যাগে পাওয়া এই মাতৃভূমিকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে, স্মার্ট নাগরিক হতে হবে। আপনারা শুধু প্রযুক্তি বিজ্ঞান ব্যবহার করবেন না এর উদ্ভাবক হবেন। যে যে বিষয়ে পড়েন না কেন সকলকে ভাষা জ্ঞান, প্রযুক্তি জ্ঞান অবশ্যই থাকতে হবে। নীতি নির্ধারক এবং শিক্ষকরা এ বিষয়ে কাজ করবেন। শুধু সনদ না দক্ষতা তৈরি করতে কাজ করবেন।
অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ আসাদুজ্জামান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনিক কমকর্তা কমচারীরা।












