কুমিল্লারবিবার, ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুবিতে ক্লাসমেটকে মারধর,বিচার দাবি সহপাঠীদের

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মে ১৭, ২০২৬ ১১:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আকরাম চৌধুরীকে মারধর করেছেন তার ক্লাসমেট মো. শাহপরান হোসাইন।

রোববার (১৭ মে) সকাল ১০টা ৪০মিনিটে ক্যাম্পাস গেইট সংলগ্ন মামা হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে মারাত্মক ভাবে জখম হন আকরাম চৌধুরী। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে নগরীর সদর হসপিটালে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. শাহপরান হোসাইনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের কাছে লিখিত আবেদনপত্র দিয়েছেন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। এ সময় সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা প্রভাষক মশিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আবেদনপত্রের ভাষ্য, ১৭ মে সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক সংলগ্ন মামা হোটেলের সামনে মো. শাহপরান হোসাইন (আইডি-১২৪১৮০৪০) আকরাম চৌধুরীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আকরাম চৌধুরী গুরুতর আহত হন।

আবেদনপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাকে কেন্দ্র করে শাহপরান হোসাইন ও আকরাম চৌধুরীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উভয়ের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকার করা হয়। তবে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের দাবি, শাহপরান হোসাইন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আকরাম চৌধুরীর ওপর হামলা চালিয়েছেন। অভিযুক্ত শাহপরানের সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে অনিরাপদ বোধ করছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আকরাম চৌধুরী বলেন, “আমি সকাল ১০:৪০ মিনিটের দিকে ক্লাসের উদ্দেশ্যে মামা হোটেলের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। মামা হোটেল অতিক্রম করার মুহূর্তে শাহপরান হাতে শিকল বেঁধে পেছন থেকে হামলা করে। প্রথমেই শাহপরান আমার চোখের ওপর ঘুষি মারে। আমি মাটিতে পড়ে যাই। এরপর শাহপরান আমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারে। যখন আশপাশের মানুষ তাকে আটকাতে আসে, তখন শাহপরান গাড়িতে উঠে চলে যায়।”

কোন কারণে তাকে মারধর করা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে আকরাম চৌধুরী বলেন, “আমি জানি না, সে আমাকে কেন মারছে। হঠাৎ সে আমার পেছন থেকে মারতে শুরু করে।”

অভিযুক্ত শাহপরান হোসাইন বলেন, যেহেতু অভিযোগ প্রক্টর অফিসে দেওয়া হইছে। সেটা প্রক্টর আমার সাথে কন্টাক্ট করবে। আমার ডিপার্টমেন্টের স্যারদের সাথে কথা বলবো। স্যাররা আমাকে ইনকোয়ারি করলে স্যারদের সাথে আমি কথা বলবো। প্রক্টর অফিসের থেকে আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো নোটিশ আসে নাই।”

এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী সাব্বির বলেন, “আমি হোটেল থেকে খাবার নিচ্ছিলাম। হঠাৎ করে দেখি শাহপরান আকরামকে পেছন থেকে ধরে বেধড়ক মারছে। তারপর সে গাড়ি করে চলে যায়। পরে আকরামকে মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যায়।

সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা প্রভাষক মশিউর বলেন, চেইন বা কাঁচ জাতীয় কিছু একটা দিয়ে হয়তো আক্রমণ করছে যতটুকু আমি শুনতে পেলাম। আকরামের জায়গা থেকে আকরাম সঠিক বিচারটা পাক। যদি শাহ পরান মেরে থাকে, এটা একটা ফৌজদারি অপরাধ। কথার অমিল থাকবে কিন্তু কেউ কারো গায়ে হাত তুলবে এত বড় স্পর্ধা দেখানোটা ফৌজদারি অপরাধ।”

এ বিষয়ে প্রক্টর ড. আব্দুল হাকিম বলেন, অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীর মধ্যে পূর্বে একবার মারামারির ঘটনা ঘটেছিলো। সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তমতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটানোর মুচলেকা নিয়ে তাদের সতর্ক করা হয়। যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে তারা যে কোন শাস্তি মেনে নিবে বলেন।  আজকে সকালে পুনরায় একজন আরেকজনের উপর হামলা করেছ বলে অভিযোগ পেয়েছি আমরা। প্রক্টরিয়াল বডি বসে বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবে।