স্টাফ রিপোর্টার: মোখলেছুর রহমান কুমিল্লা লাখসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের মনপাল গ্রামের বাসিন্দা। ছোট্ট একটা টিনের ঘরে একাই বসবাস করেন।
তার সাথে কথা বলে জানা যায় মোখলেছুর রহমানের বয়স ১২৭ বছর তবে তার ভোটার আইডি কার্ডে জন্ম তারিখ ২০ই জুলাই ১৯১৮। সেই প্রেক্ষিতে তার বয়স ১০৫ বছর চলমান।
তবে ভোটার আইডি কার্ডে বয়স ভুল উঠেছে বলে জানান মোখলেছুর রহমান। তিনি বলেন ঐসময় আমার বয়স ভুল লিখেছে। আমার প্রকৃত বয়স ১২৭ বছর। তিন ছেলে আর তিন মেয়ে বাবা তিনি। ২০০৫ সালে মেজো ছেলে মারা যায়। ২০০৮ সালে ছোট ছেলে মারা যায়। অবশেষে ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের দিন তার স্ত্রী মারা যায়।
বড় ছেলে নজর আলী এবং মৃত দুই ছেলের বউ বাচ্চাদের নিয়ে একই বাড়িতে থাকেন। একদিন বড় ছেলে ঘরে, একদিন মেজো ছেলের ঘরে, একদিন ছোট ছেলের ঘরে খাওয়া দাওয়া করে জীবন যাপন করছেন তিনি। সরকার থেকে পাওয়া ৩মাস পর পর বয়স্ক ভাতা বাবদ ১৫০০ টাকা পান যা দিয়ে ঔষধ খরচ চলে তার। তাছাড়া ছেলে নাতীদের কাছ থেকে টাকা নেয় মাঝেমধ্যে।
১২৭ বছর বয়সেও নিজের কাজ নিজে করেন। বাড়ি থেকে মনপাল কেন্দ্রীয় বড় মসজিদে যেয়ে পাচ ওয়াক্ত নামায আদায় করেন। প্রতিদিন দুপুরে বড় মসজিদের পুকুরে একা গিয়ে গোসল করেন। পাচ ওয়াক্ত নামাযের ওযু করেন পুকুরে। চুল কাটেন বাজারে গিয়ে। হাতের নখ এখনো নিজেই কাটেন।
যৌবনে রিকশা চালকের পাশাপাশি দিনমজুর ছিলেন মোখলেছুর রহমান। পড়াশোনা নেই বললেই চলে। জীবনের একটি অংশ কাটিয়েছেন চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টের পাশে ড্রাইভার কলনীতে থাকতেন। রিকশা চালানোর পাশাপাশি পাহাড় থেকে কাঠ কেটে এনে বিক্রি করতেন। ঐসময় তার সাথে থাকা অন্য রিকশা চালকরা তাকে বলী বলে ডাকতেন এইভাবেই যৌবনে কাটানো কিছু স্মৃতির কথা বলেন সময় সংবাদকে।
যৌবনের কথা বলতে গিয়ে আরো অতীতে ফিরে যায় মোখলেছুর রহমান। বলেন ঐ আমলে চার আনা দিয়ে অনেক কিছু পাওয়া যেত। মেঘের দিনে নৌকা দিয়ে চলাচল করতাম। এক প্রশ্নের জবাবে হাসি মুখে বলেন এখনকার পোলাপাইন কিছুই খাইতে পারে না, আমরা আমলে এক পাতিল ভাত পেঁয়াজ মরিচ দিয়ে খেয়ে ফেলতাম। এখন সব খাবারে ভেজাল। আমরা খাইছি ভেজাল ছাড়া খাবার।
মোখলেছুর রহমানে বড় মেয়ে মোছুদা বেগমের ছেলে রানা সময় সংবাদকে বলেন আমার নানা এই এলাকার সব চেয়ে বয়স্ক মানুষ। ওনার সাথের সবাই মারা গেছেন। তিন বছর আগে চট্টগ্রামে মেয়ের বাসায় গিয়েছিল। চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে লাখসাম স্টেশনে নেমে হেটে হেটে বাড়িতে চলে এসেছে নানা। এক বছর আগে আমার মামাতো ভাইয়ের বিয়ে খেতে গিয়েছিল মনোহরগঞ্জ উপজেলায়। বিয়ের দাওয়াত খাওয়ার পর নানা আমাদেরকে বলছে যদি এমন খাবার প্রতি সপ্তাহে একবার খেতে পারতো তাহলে ওনি নাকি আরো ২০ বছর বেশি বাচতো। আমরা তো বেশিরভাগ সময় কাজে থাকি। অবসর থাকলে নানা আমাদের সাথে অনেক মজা করে, অনেক গল্প বলে ওনার জীবনের।
এলাকাবাসীরা সময় সংবাদকে জানায় ওনি আযান শোনার সাথে সাথে ওযু করে মসজিদে চলে আসেন। জামায়াতে নামায আদায় করেন পাচ ওয়াক্ত। মাঝে মধ্যে দেখি দোকানে এসে সবার সাথে বসে চা পাউরুটি খায়। সবার সাথে কথা বলে। এই সব এলাকাবাসী অনেক খুশি হয়। তার মত বয়স্ক ব্যক্তি এলাকায় আর কেউ নাই। সবাই তাকে মুরুব্বি বলে সম্মান করেন।
উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়বের ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ বেলাল হোসেন সময় সংবাদকে বলেন আমি ওনাকে বয়স্ক ভাতা করে দিয়েছি। ওনার ভাল মন্দ সব কিছু আমার কাছে বলার জন্য বলছি।
লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ইমাম হোসেন সময় সংবাদকে বলেন কিছুদিন আগে ফেইসবুকের মাধ্যমে ওনার কথা জানতে পারি। তারপর ওনাকে আমার অফিসে এনে বলছি প্রতিমাসে ঔষধ খাওয়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবে আমি একটা পকেট খরচ ওনাকে দিবো। তারপর ২ টা কম্বল দিয়েছি।












