কুমিল্লাসোমবার, ১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অতীতে ভুল নীতির কারণে অনেক বিনিয়োগকারী চলে গেছেন: অর্থ উপদেষ্টা

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জানুয়ারি ৫, ২০২৫ ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!


ডেস্ক রিপোর্ট:

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দুর্নীতি ও অন্যান্য বিষয় ছাড়াও অতীতে অনেক ভুল নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল এবং এর ফলে বর্তমানে আমাদের মূল্য দিতে হচ্ছে। তিনি রোববার (৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ-সৌদি আরব অর্থনৈতিক এনগেজমেন্ট’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “এখন ভর্তুকি, সস্তা অর্থ এবং কম সুদের দিন শেষ। এগুলো প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির চিহ্ন নয়। আমরা আর কতদিন শিশু অবস্থায় থাকবো? তৈরি পোশাক শিল্প ১৯৮০-এর দশকে চালু হয়েছে এবং ৪৫ বছর পরেও এটি শিশু অবস্থায় রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে ১৬০ কোটি ডলার পাওয়া গেছে এবং অল্প দিনের মধ্যে আরও ৭০ কোটি ডলার পাওয়া যাবে। তবে, অর্থ সংগ্রহ করা বড় বিষয় নয়, বরং বড় বিষয় হচ্ছে কোথায় অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং কীভাবে অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সহায়তা বা অনুদান বড় বিষয় নয়, বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ব্যবসা। সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের ২০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য রয়েছে এবং এর বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, “সৌদি কোম্পানি আরামকো বাংলাদেশে এসেছিল, কিন্তু তাকে স্বাগত জানানো হয়নি। একই কথা সত্য স্যামসাং-এর ক্ষেত্রেও। তারা এসেছিল, তাদেরকেও স্বাগত জানানো হয়নি। তারা পরে ভিয়েতনামে চলে গিয়েছিল।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন অনুষ্ঠানে বলেন, “আমাদের দেশে অর্থনৈতিক সুযোগ আকৃষ্ট করার জন্য অনেক কিছু করতে হবে। এই বাস্তবতা আমাদের মেনে নিতে হবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছি যে, আমাদের দেশ সবচেয়ে ভালো বিনিয়োগবান্ধব, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি সবসময় সত্যি নয়। বর্তমান সরকার এই অবস্থার পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য আমরা ব্যবসা সহজ করার ব্যবস্থা নিচ্ছি।” তিনি বলেন, এখন যদি সৌদি বিনিয়োগকারীরা আসেন তবে তারা ভালো একটি পরিবেশ পাবেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলান বলেন, “আরামকো ২০১৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনবার বাংলাদেশে এসেছিল, কিন্তু তাদেরকে কেউ অভ্যর্থনা জানায়নি। তবে আমরা অতীত নিয়ে কথা বলবো না, আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলবো।” তিনি জানান, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি আরামকো বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী। তারা বঙ্গোপসাগরে একটি তেল শোধনাগার স্থাপন করতে চায়। যদি এখানে একটি তেল শোধনাগার স্থাপিত হয় এবং তেলজাতীয় পণ্য উৎপাদন হয়, তবে সেখান থেকে বাংলাদেশ এবং এই অঞ্চলে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে। যদি তারা চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দা বা দাম্মামের মধ্যে একটি সমুদ্রপথ তৈরি করতে পারে, তবে সেটি বাংলাদেশ এবং এই অঞ্চলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। এই তেল শোধনাগারের পণ্য চীন, ভারত এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাঠানো সম্ভব হবে।

মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকদিন ধরে স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে দুটি ব্যাচ স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানো হয়েছে এবং তৃতীয় ব্যাচ ভবিষ্যতে যাবে।