কুমিল্লাশনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জেরুজালেমে খ্রিস্টান সন্ন্যাসিনীর ওপর ইসরাইলি সেটেলারের আক্রমণে নিন্দার ঝড়

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মে ২, ২০২৬ ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফিলিস্তিনের অধিকৃত জেরুজালেমে একজন ফরাসি ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকের ওপর হামলা চালিয়েছে এক ইসরাইলি সেটেলার। হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে ইসরাইল। সেই সঙ্গে হামলাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক সন্ন্যাসিনী জেরুজালেমের জায়ন পর্বতে চার্চ অব দ্য লাস্ট সাপারের সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। তখন এক ইসরাইলি সেটেলার পেছন থেকে দৌড়ে গিয়ে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়, যার ফলে ভুক্তভোগী পাথরের রাস্তার ওপর পড়ে যান। এতে তার মাথা একটি পাথরের খণ্ডে আঘাত লাগে।

আক্রমণের পর কয়েক পা হেঁটে যাওয়ার পর হামলাকারী আবারও মাটিতে পড়ে থাকা সন্ন্যাসিনীর দিকে ফিরে যায় এবং তাকে লাথি মারেন। এ সময় একজন পথচারী দৌড়ে এসে হামলাকারী বাধা দিলে সে থামে। 

৪৮ বছর বয়সি আহত সন্ন্যাসিনী জেরুজালেমের ফ্রেঞ্চ স্কুল অব বাইব্লিকাল অ্যান্ড আর্কিওলজিকাল রিসার্চ নামে একটি স্কুলে কাজ করেন। জানা গেছে, তার মুখে সামান্য আঁচড় লাগলেও তিনি গুরুতর আহত হননি। এই হামলার ঘটনা ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

সমালোচনার মুখে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে এর নিন্দা জানায়। সেই সঙ্গে ইসরাইলি পুলিশ হামলাকারী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ৩৬ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে।

যে স্থানে হামলার ঘটনা ঘটে সেই মাউন্ট জায়ন ইহুদিদের কাছে রাজা ডেভিডের সমাধি হিসেবে পূজনীয় স্থান এবং খ্রিস্টানদের কাছে শেষ ভোজের স্থান হিসেবে ঐতিহ্যগতভাবে বিবেচিত সিনাকলের কাছে অবস্থিত। হামলাকারী এক ব্যক্তিকে ইহুদি ধর্মাবলম্বী এবং হামলার ঘটনাটিকে ধর্ম-প্ররোচিত একটি সম্ভাব্য বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ফরাসি দূতাবাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে: ‘ফ্রান্স এই আগ্রাসনের অপরাধীকে এই কাজের জন্য বিচারের আওতায় আনার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাচ্ছে।’

জেরুজালেমে অবস্থিত ফ্রেঞ্চ স্কুল অব বাইব্লিকাল অ্যান্ড আর্কিওলজিকাল রিসার্চ-এর পরিচালক ফাদার অলিভিয়ের পোকিলোঁ বলেন, তাদের স্কুলের একজন গবেষক সন্ন্যাসিনীর ওপর হামলার ঘটনায় তিনি ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটি কঠোর প্রতিক্রিয়া আশা করছেন।

জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, ‘এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং তাদের প্রতীকগুলোর প্রতি ক্রমবর্ধমান বৈরিতার এক উদ্বেগজনক ধারার অংশ।’ 

তারা আরও উল্লেখ করেছে, হামলার শিকার ব্যক্তি ছিলেন ‘এই ভূমির ঐতিহ্য উন্মোচনে একজন অত্যন্ত প্রিয় অ্যাকাডেমিক সহযোগী। এর গবেষকদের ওপর হামলা মানেই বিশ্ব বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের ওপর হামলা।’

ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই হামলাটি একটি ‘লজ্জাজনক কাজ [যা] সম্মান, সহাবস্থান এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার মতো মূল্যবোধের সরাসরি পরিপন্থী, যার ওপর ভিত্তি করে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত এবং যার প্রতি দেশটি গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।

বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট সরকার ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের উত্থানকে উৎসাহিত করেছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়, যা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন, গত কয়েক বছর ধরে ইসরাইলি সেটেলারদের কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান হয়রানির শিকার হচ্ছে।

গত মাসে দক্ষিণ লেবাননে এক ইসরাইলি সেনাকে হাতুড়ি দিয়ে যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তি ভাঙতে দেখা যায়। এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। এরপর ওই সেনা এবং ভিডিও ধারণকারী আরেক সেনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও দুঃখ প্রকাশ করেন। বলেন, তিনি এই ঘটনায় ‘হতবাক ও দুঃখিত’।

ইসরাইলি স্বেচ্ছাসেবকদের একটি নেটওয়ার্ক রিলিজিয়াস ফ্রিডম ডেটা সেন্টার (আরএফডিসি) চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে খ্রিস্টানদের হয়রানির ৩১টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। বেশিরভাগ ঘটনাতেই গির্জার সম্পত্তিতে থুতু ফেলা বা ভাঙচুর করা হয়েছে। এর চলতি সপ্তাহের সহিংস হামলাটি ঘটল।