কুমিল্লাসোমবার, ১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ক্রেতা কম, শূণ্য হাতে ফিরছে হাটে আসা শ্রমিকরা

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জানুয়ারি ৫, ২০২৫ ১২:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার:

কনকনে ঠান্ডা, কুয়াশার চাদরের ছেয়ে আছে বাংলাদেশের বেশিরভাগ অঞ্চল, তারপরও জীবিকার তাগিদে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পরছে মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষের সাথে সাথে দেখা মিলে ফুটপাতে কাপড় বিক্রেতা, ভ্যানগাড়িতে করে তরকারি বিক্রেতা, চা দোকানদার এবং একদল শ্রমের দোকানদার, যারা এই ঠান্ডা উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে থাকে শ্রম বেচাকেনার আশায়।

কুমিল্লার কান্দিড়পাড়, টাউনহলের সামনে দিনাজপুর, রংপুর, ঠাকুরগাও,সিলেট, কুড়িগ্রাম, চাপাইনবাবগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে জরো হয় নিজেদের শ্রম বিক্রি করতে, সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য দেশের এক প্রান্ত থেকে ছুটে আসে আরেকপ্রান্তে।

কেউ বিল্ডিং মেরামতে, কেউ পুকুর খননে কেউবা আবার রাজমিস্ত্রীর সহযোগী হিসেবে ঘন্টায় কিংবা সারাদিনের চুক্তিতে নিজের শ্রম বিক্রি করেন। রাজমিস্ত্রী, বৈদ্যুতিক মিস্ত্রী, টিনের বাড়ি মেরামত মিস্ত্রী, রং মিস্ত্রী, টাইলস মিস্ত্রী, এবং কৃষি জমিতে কাজ করার দিনমজুর। রোজ ৬০০/৭০০ টাকার বিনিময়ে বেচাকেনা হয় তাদের শ্রম।

রবিবার শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে টাউনহলের সামনে গিয়ে দেখা গেল দিনমজুররা ক্রেতার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে এবং বসে আছেন। সঙ্গে আছে ঝুড়ি, কোদাল, হাতুড়িসহ বিভিন্ন কাজের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।
কেউ ওইসব হাটে নামলেই তাকে ঘিরে ধরছে সবাই। বলছে- “কি লেবার লাগবে?” এমনকি কেউ অন্যকাজে আসলেও তাকে ঘিরে ধরছেন দিনমজুররা। এতে লোকজন বিব্রতও হচ্ছে।

কেউবা আবার কোন কাজ না পেয়ে ঘুড়ে বেড়ান অসহায়ের মতো। তাদের একবেলা খাবারের জন্য দারস্থ হতে হয় অন্যের দ্বারপ্রান্তে।

তীব্র শীতের মধ্যেও ভোরে হাজির হয়েছেন, কমিয়ে দিয়েছেন শ্রমের মূল্য, তবুও খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে কুমিল্লার হাটে আসা শ্রমিকদের। কারণ হাটে শ্রম বিক্রেতার ভিড় থাকলে কমে গেছে কেনার লোক।

চাপাইনবাবগঞ্জ এর সেলিম মিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায় গত তিনদিন যাবত সে কোন কাজ পায়নি। রিকশা বা সিএনজি থেকে কেউ নামলেই ছুটে যাচ্ছে কাজ পাবার আশায়। বাড়ির সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে রেখেছে, ছোট ছেলেটি ফোন দিলেই নাকি বায়না ধরে নতুন সোয়েটার আর খেলনার জন্য। কথা বলতে বলতে সেলিমের চোখ ভারি হয়ে যায় কান্নায়।

কুড়িগ্রামের জয়নাল জানান, আগের মতো কাজ নাই, বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে কাজ নিতে হয়। ক্রেতা কম থাকার কারণে আমরা শ্রমের সঠিক মুল্য পাইনা।

শহরের বাদুরতলার ক্রেতা শরিফ আহাম্মেদ বলেন, “এখন ক্রেতার চেয়ে দিনমজুরই বেশি। এখন কেউ ৬০০, কেউ ৭০০ দাম চাইছে। ঘুরে ঘুরে দেখছি। একটু পরেই ৫০০ টাকাতেই পেয়ে যাব।”

কুমিল্লা কৃষি অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, এখন মাঠে স্বল্প পরিসরে কাজ চলছে। আলুও রোপন শেষ। মাঠে তেমন কাজ না থাকায় কৃষি শ্রমিকের চাহিদা কম। তাই মজুরীও কমে গেছে।

“ইরি-বোরো চাষ পুরোপুরি শুরু হতে এখনও ২০-২৫ দিন। তখন আবার কৃষি শ্রমিকদের চাহিদা তৈরি হবে।”