যশোরের মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি ও আপত্তিকর ছবি তুলে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করার অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার ক্লাস বর্জন করে ওই শিক্ষকের শান্তি দাবিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষককে আটকের পাশাপাশি তার বাসা থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি কম্পিউটার জব্দ করে পুলিশ।
আটক সহকারী শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বাসিন্দা ইকরামুল ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ইকরামুল দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে কোচিং বা প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করতেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের দাবি, তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া বা ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো।
একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে একটি কক্ষে প্রাইভেট পড়ানোর সময় তিনি কয়েকজন ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে সেইসব ছবি দেখিয়ে তাদের ব্ল্যাকমেইল করে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে এক অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইকরামুলের শ্রেণি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ইকরামুল পুনরায় ক্লাস নেওয়া শুরু করলে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এর প্রতিবাদে এদিন সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন, মনিরামপুর থানার ওসি আবু সাঈদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোজাফ্ফর হোসেন, একাডেমিক সুপারভাইজার মাসুদ হোসেনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।
প্রায় তিন ঘণ্টা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে বেলা ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে যান।
তবে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তছির উদ্দিন তার বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ইকরামুল শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে ইকরামুলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মনিরামপুর থানার ওসি আবু সাঈদ।
ইউএনও সম্রাট হোসেন বলেন, “ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি ইকরামুলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের উপপরিচালকের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।”









