কুমিল্লামঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অন্য পুরুষের সঙ্গে কথা বলা সন্দেহে প্রেমিকাকে কাঁচি দিয়ে হত্যা

প্রতিবেদক
Cumilla Press
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রেমিকা অন্য পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন—এমন সন্দেহ ছিল ভারতের আসামের এক যুবকের। এই সন্দেহ থেকেই ২৩ বছর বয়সী প্রেমিকাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। পরে একটি হোটেলের কক্ষে ধারালো কাঁচি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আসামের কামরূপ গ্রামীণ জেলার রাঙ্গিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তরুণীর নাম মালিনী গুরিয়া। ২৩ বছর বয়সী মালিনী সোনিতপুর জেলার হুগ্রাজুলি এলাকার বাসিন্দা। আর গ্রেপ্তার হওয়া ২২ বছর বয়সী অভিজিৎ কিন্ডো উদালগুড়ি জেলার বাসিন্দা।

পুলিশ জানিয়েছে, রাঙ্গিয়া রেলস্টেশনের কাছের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন অভিজিৎ ও মালিনী। রোববার সকালে হোটেলের একটি কক্ষ থেকে মালিনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকেই অভিজিৎকে আটক করে পুলিশ।

তদন্তকারীদের ভাষ্য, মালিনী তার সঙ্গে প্রতারণা করছেন—এমন সন্দেহ তৈরি হয়েছিল অভিজিতের মনে। বিশেষ করে তিনি অন্য পুরুষদের সঙ্গে কথা বলছেন বলে সন্দেহ করতেন অভিযুক্ত। এ কারণেই আগেই প্রেমিকাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আগের রাতে চেন্নাই থেকে আরও দুই নারীর সঙ্গে রাঙ্গিয়ায় আসেন মালিনী। তাদের অভ্যর্থনা জানাতে রেলস্টেশনে গিয়েছিলেন অভিজিৎ। পরে তারা হোটেলে ওঠেন।

মালিনীর বন্ধুদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পারে, প্রথমে অভিজিৎ নিজের জন্য আলাদা একটি কক্ষ নিয়েছিলেন। তবে রাত গভীর হলে তিনি মালিনীর কক্ষে চলে যান এবং সেখানেই অবস্থান করেন।

পুলিশের হেফাজতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অভিজিৎ দাবি করেন, মালিনী তার সঙ্গে প্রতারণা করছিলেন এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। মালিনী রাঙ্গিয়ায় আসার আগেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বলেও জানান তিনি।

পুলিশের দাবি, কাঁচি ও একটি টেস্টার দিয়ে মালিনীকে আঘাত করেন অভিজিৎ। পরে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পাওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

রাঙ্গিয়া রেলস্টেশনের এক কর্মকর্তা ঘটনার খবর পেয়ে ভোরে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ হোটেলে গিয়ে দ্রুত অভিজিৎকে আটক করে। এর আগে সকালে মালিনীর বন্ধুদের ফোন করেও অভিজিৎ তাকে হত্যার কথা জানিয়েছিলেন এবং নিজে আত্মহত্যা করবেন বলে দাবি করেছিলেন।

ঘটনার পর গুয়াহাটি থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল হোটেলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে মালিনীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।