গাজীপুরের টঙ্গীতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে রেললাইনের পাথর ছুড়ে পাঁচটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক চিহ্নিত আসামিকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ সময় দুষ্কৃতকারীদের নিক্ষিপ্ত পাথরের আঘাতে টঙ্গী পূর্ব থানার কনস্টেবল মাসুদ গুরুতর আহত হলে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর কেরানীরটেক মাদক বস্তি এলাকা থেকে ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে পরিচিত রানী বেগমের ছেলে রাহুলকে গ্রেপ্তার করে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। অভিযুক্ত রাহুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার মোট পাঁচটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন সড়ক দিয়ে হেঁটে থানায় নিয়ে আসার পথেই ওঁৎ পেতে থাকা মাদক কারবারিরা এই অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, পুলিশ দল স্টেশনের কাছে পৌঁছালে মাদক কারবারিরা সংগঠিত হয়ে রেললাইন থেকে পাথর কুড়িয়ে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে চারিদিক থেকে বৃষ্টির মতো ছুড়তে থাকে। পাথরের আঘাতে কনস্টেবল মাসুদ গুরুতর আহত হয়ে পড়লে সেই সুযোগে হামলাকারীরা পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ আসামি রাহুলকে ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থল ও স্টেশন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় আসামির হাতকড়াটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকছুদুল আলম জানান, পাঁচটি মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি রাহুলকে গ্রেপ্তার করার পর থানায় নিয়ে আসার পথে মাদক কারবারিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকে। এতে কনস্টেবল মাসুদ আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং সেই সুযোগে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ছিনতাই হয়ে যাওয়া পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার এবং পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে রাত থেকেই বিভিন্ন এলাকায় জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে।










