কুমিল্লাবুধবার, ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পারস্য উপসাগর কেন বিশ্বের জ্বালানি কেন্দ্র: ভূতত্ত্ব, ইতিহাস ও বিপুল তেল-গ্যাস ভাণ্ডারের বিশ্লেষণ

প্রতিবেদক
Cumilla Press
এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১২:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। লাখ লাখ বছরের ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা এই অঞ্চল আজ বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের বিশাল ভাণ্ডার ধারণ করছে। ফলে এ অঞ্চলে সামান্য সংঘাতও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারস্য উপসাগরে ৩০টিরও বেশি ‘সুপারজায়ান্ট’ তেলক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে প্রতিটিতে অন্তত ৫০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মজুত আছে। এসব ক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল উত্তোলন করা হয়, তা বিশ্বের অনেক বড় তেলক্ষেত্রের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।

ভূতাত্ত্বিকভাবে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত। আরবীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্টি হয়েছে জাগরোস পর্বতমালা ও বিশাল গম্বুজাকৃতির ভূ-গঠন, যা তেল ও গ্যাস জমা রাখার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে। গভীর ভূগর্ভের তাপ ও চাপ জৈব পদার্থকে রূপান্তরিত করে তেল ও গ্যাসে পরিণত করেছে।

ইতিহাস বলছে, হাজার হাজার বছর আগেও এই অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে তেল ও গ্যাসের নিঃসরণ দেখা যেত। তবে আধুনিক তেল অনুসন্ধানের সূচনা হয় ১৯০৮ সালে ইরানে। এরপর ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে ব্যাপক অনুসন্ধানের মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি ভাণ্ডার এই অঞ্চলেই অবস্থিত।

পারস্য উপসাগরের তেল ও গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের ঘাওয়ার তেলক্ষেত্র বিশ্বের বৃহত্তম। পাশাপাশি সাউথ পার্স-নর্থ ডোম গ্যাসক্ষেত্রেও বিপুল গ্যাসের মজুত রয়েছে, যা শক্তির দিক থেকে শত শত বিলিয়ন ব্যারেল তেলের সমতুল্য।

বর্তমানে বিশ্বের মাত্র তিন শতাংশ ভূখণ্ডের নিচে প্রায় অর্ধেক তেল এবং ৪০ শতাংশ গ্যাস মজুত রয়েছে এই অঞ্চলে। দীর্ঘদিন উৎপাদন চললেও এখনও নতুন নতুন মজুত আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি—যেমন হরাইজন্টাল ড্রিলিং ও ফ্র্যাকচারিং—ব্যবহার করে ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। তবে এসব প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।

সব মিলিয়ে ভূতাত্ত্বিক গঠন, বিশাল মজুত ও সহজ উত্তোলন পদ্ধতির কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল বিশ্ব জ্বালানি ব্যবস্থায় অনন্য অবস্থান ধরে রেখেছে।