সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওই ড্রোনটি ভূতাতিত করেছে। তবে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক প্রবাসী পাকিস্তানি নিহত হয়েছেন। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার (৭ মার্চ) একটি ইরানি ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করার পর ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ দুবাইয়ে একটি গাড়ির ওপর এসে পড়ে। যার ফলে একজন পাকিস্তানি চালক নিহত হয়েছেন। এতে দুবাইয়ে ইরানের হামলায় মৃতের সংখ্যা ৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৭৮ জন।
এর আগে একই এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। দুবাইয়ের ২৩ মেরিনা আবাসিক ভবন থেকে আগুন এবং ধোঁয়া ওঠা দেখা যায় বলে জানায় দ্য টেলিগ্রাফ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরবর্তীতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা ওই এলাকায় মার্কিন সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এদিন দুবাই বিমানবন্দরে একটা বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর ফলে বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, তারা সাময়িকভাবে সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। যাত্রী, বিমানবন্দর কর্মী ও এয়ারলাইন্সের ক্রুদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এর আগে গত রোববার (১ মার্চ) দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বিমানবন্দর ও এখানে অবস্থিত বুরজ আল আরব হোটেলে ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় চারজন আহত হয়।
গত সপ্তাহে (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। সময়ের সঙ্গে এই হামলার মাত্রা ক্রমেই বেড়েছে। জবাবে ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
গত শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। এদিন প্রথমবারের মতো তারা তেহরানের তেল সংরক্ষণাগার, তেল পরিশোধনাগার ও পানি শোধনাগারে আঘাত করেছে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বড় ধরনের আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারী দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এর গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা আলি লারিজানি বলেছেন, যুদ্ধ শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে এর মূল্য দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ বন্ধে যেকোনো ধরনের সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা আরও বাড়ানো এবং সেই সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য সব নেতাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।
শনিবার মিয়ামিতে ইরানি হামলায় নিহত মার্কিন সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে ‘কোনো আলোচনায় আগ্রহী নন। যুদ্ধ তখনই শেষ হতে পারে, যখন তেহরানের আর কার্যকর কোনো সেনাবাহিনী থাকবে না বা ক্ষমতায় কোনো নেতৃত্ব অবশিষ্ট থাকবে না।’
উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ—কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ক্ষমা চাওয়া ও হামলা বন্ধের আশ্বাস দেয়ার পরও ইরান থেকে আরও কিছু হামলা হয়েছে।
সংঘাতের শুরু থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলো হামলা চলছিল। তবে শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন যে, উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে হামলা চালানো না হলে আমাদের হামলা বন্ধ হবে। তেহরান এখন বলছে, উপসাগরীয় ঘাঁটিগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানোর মাধ্যমে ট্রাম্প সেই উদ্যোগ নষ্ট করেছেন।


.












