মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় তিনটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে Iran। এসব হামলায় প্রায় ২২০ জন মার্কিন সেনা ও সামরিক কর্মকর্তার নিহত বা আহত হওয়ার দাবি করেছে তেহরান। খবর দিয়েছে
ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে United States ও Israel-এর সামরিক পদক্ষেপের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের মতে, হামলাগুলো নির্দিষ্টভাবে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে।
ইরানেরএর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল এক বিবৃতিতে জানান, -এ অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর United States Fifth Fleet লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, -এ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের দাবি, ওই সময় ঘাঁটিতে অবস্থানরত প্রায় ২০০ জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন এবং সামরিক অবকাঠামোরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ ছাড়া পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে ওই হামলায় জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূচনা হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওই সময় Iran অভিযোগ করে, তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে United States ও Israel। তেহরানের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছিল।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, কয়েক মাস আগে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে চালানো এক হামলায় ইসলামি বিপ্লবের নেতা সহ বহু বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই প্রতিশোধমূলক সামরিক পদক্ষেপ শুরু করেছে তেহরান।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের সামরিক অভিযান মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট স্বার্থকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে। যেসব দেশের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে ইরানের সরাসরি কোনো শত্রুতা নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।


.












