ডেস্ক রিপোর্ট:
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সৌদি আরবের উচিত তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন করা, কারণ দেশটিতে প্রচুর খালি জায়গা রয়েছে। শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি গণমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার চ্যানেল ১৪ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মত প্রকাশ করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পূর্বশর্ত হিসেবে সৌদি আরব ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের কথা জানিয়েছে। রিয়াদ এই শর্ত নিয়ে কোনো দরকষাকষি সম্ভব নয় বলেও নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, “আমি এমন কোনো চুক্তিতে যাবো না, যা রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলকে বিপদে ফেলবে। বিশেষত ৭ অক্টোবর পরবর্তী পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনায় সম্মতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা কি জানেন, সেটা কি? একটা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র ছিল। সেটার নাম গাজা। গাজার নেতৃত্বে ছিল হামাস, তারাই এই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করতো। আর দেখুন আমরা সেখান থেকে কি পেয়েছি— হলোকাস্টের পর সবচেয়ে বড় গণহত্যা।”
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন নেতানিয়াহু। ওই সম্মেলনে ট্রাম্প ‘গাজা দখলের’ একটি বিস্ময়কর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। এছাড়াও, সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক পুনঃস্থাপন ও স্বাভাবিক করার বিষয়েও দুই নেতা আলোচনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনের অল্প সময় পর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের আগে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়।
এ সপ্তাহের শুরুর দিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জেরুজালেম পোস্টকে জানান, নেতানিয়াহু সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিনিময়ে গাজার যুদ্ধের অবসান ও পশ্চিম তীর অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
কর্মকর্তারা আরও জানান, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনে সম্মতি না দিলেও পশ্চিম তীরের অধিগ্রহণ বন্ধ রেখে রিয়াদকে তুষ্ট করার চেষ্টা চালাতে পারেন নেতানিয়াহু।












