কুমিল্লামঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মমতার প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি

প্রতিবেদক
Cumilla Press
ডিসেম্বর ২, ২০২৪ ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!


ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ভারতীয় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। একই সাথে বাংলাদেশে সনাতন হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের পার্শ্ববর্তী দেশের গভীর চক্রান্ত সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এখানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাব করেছেন, যা পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় শীতকালীন অধিবেশনে পেশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভিনদেশী একজন রাজনীতিবিদের এমন প্রস্তাব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অবজ্ঞা ও অপমান করার সমান। এটি একটি স্বাধীন দেশের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকি। বাংলাদেশের জনগণ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যে হতবাক এবং বিস্মিত হয়েছে। এ দেশের মানুষ তাকে একটি সেক্যুলার ও উদার দৃষ্টিভঙ্গির ব্যক্তি হিসেবে জানতো। আজকের বক্তব্যে আবারও প্রমাণিত হলো, কট্টর হিন্দুত্ববাদী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

সোমবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

রিজভী আরও বলেন, ভারতের অধিকাংশ রাজনীতিবিদই বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারকে সম্মান করেন না। সেই তালিকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তারা নিজ দেশে অন্যায় দেখলেও তাতে কোন দৃষ্টি দেন না। গুজরাটের হাজার হাজার মুসলিম হত্যাকাণ্ডের ট্র্যাজেডি এখনও বিশ্ববাসীর মনে আছে। কাঁটাতারের বেড়ার ওপর ফেলানীর ঝুলন্ত লাশ, কি তারা ভুলে গেছেন? ভারতের কেন্দ্রীয় সাম্প্রদায়িক শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে একত্রে অংশ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের স্বাধীন মর্যাদাকে উপেক্ষা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে মনে হচ্ছে, শেখ হাসিনার অধীনে সরকারের পতন তাদের বিষণ্ণ এবং হতাশ করেছে। হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন, গণহত্যা, নির্যাতন এবং দুর্নীতির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করে বাংলাদেশকে ধ্বংসের শেষ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল শেখ হাসিনার আওয়ামী সরকার। এখন ভারতের প্রচেষ্টায় শেখ হাসিনাকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এই দেশে যারা বাংলাদেশের স্বার্থের বিপক্ষে কাজ করছে, তাদের পেছনে ভারতের রাজনীতিবিদদের বিরোধিতার মনোভাব পরিস্কার।

তিনি আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, ভারতের নীতি নির্ধারকরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করছে, এর একটি বড় উদাহরণ তিস্তা নদীর পানি চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়া। সুতরাং, তিনি জাতিসংঘ বাহিনীকে বাংলাদেশে প্রেরণের প্রস্তাব করছেন, এর পিছনের উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পরিষ্কার হওয়া উচিত।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং এর জনগণ নির্ধারণ করবে দেশের ভবিষ্যত। কোনো দেশের গভীর চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র কখনোই বাস্তবায়িত হবে না।

তিনি আরও বলেন, ৮১ শতাংশ সনাতন বা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দেশ নেপালের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক যেমন উষ্ণ নয়, তেমনি নেপালের জনগণও ভারতের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন নয়, বরং বৈরী মনোভাব পোষণ করে। তাই বুঝতে হবে, বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি ভারতের ভালোবাসা বা বন্ধন কোনো ধর্মীয় অনুভূতির ফল নয়, এটি ভারতের আধিপত্যবাদী মনোভাব এবং ষড়যন্ত্রের অংশ।