‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-খ্যাত ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের ২০২৬ আসর নিয়ে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা কম বলা চলে। যার নেপথ্যে আয়োজক দেশগুলোর নির্লিপ্ত ও আগ্রাসী আচরণকে দায়ী করছেন অনেকে। বিশেষ করে টিকিটমূল্য থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপ ঠিক ফুটবল-বান্ধব নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে প্রশ্ন উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে যাওয়া দলগুলোর সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর আচরণ নিয়ে।
সেনেগাল ও উজবেকিস্তান জাতীয় দলের ফুটবলারদের লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানোর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। এমনকি তাদের ‘স্নাইপার ডগ’ দিয়েও তাদের দেহ পরীক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। যার সমালোচনায় কেউ কেউ বলছেন— ফুটবলার নয়, যেন কোনো অপরাধী বিশ্বকাপ খেলতে গেছেন!
আফ্রিকান ফুটবল সাংবাদিক মিকি জুনিয়র প্রথম একটি ফুটেজ নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন। যেখানে দেখা যায়, বিমান থেকে নামার কিছুক্ষণ পর টার্মিনালে নিয়ে যাওয়ার আগে, সেনেগাল দলের জার্সি পরা খেলোয়াড়দের লাগেজের কাছে বিমানবন্দরের টারম্যাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ওই সময় নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের কড়া তল্লাশি চালাচ্ছিলেন।
আরেকটি দৃশ্যে একজন খেলোয়াড়কে হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এবং তাকে হাতে ধরা যন্ত্র দিয়ে নিরাপত্তা স্ক্রিনিং করছিলেন এক নিরাপত্তা কর্মী। বিশ্বকাপের প্রতিযোগী দলের সঙ্গে এমন আচরণ নিয়ে সামাজিক মাধ্যম যখন তোলপাড়, তখন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি সেনেগাল ফুটবল কর্তৃপক্ষ। ফিফা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এর আগে থেকেই অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকার সেনেগালের ওপর অভিবাসন সংক্রান্ত এবং জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ আরোপ করে। যার জের ধরে দেশটির ফুটবলভক্তদেরও নিজ দেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ মাঠে বসে দেখায় অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। সেনেগাল ছাড়া উজবেকিস্তান ফুটবল দলকেও কড়া তল্লাশির মুখে পড়তে হয়েছে।














