সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দলটি। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে সাভার মডেল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ উপস্থিত জনতা।
সোমবার (৬ জুলাই) রাতে সাভার পৌর এলাকার তারাপুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে। ‘জুলাইয়ের চেতনায় গড়বো নতুন বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
সমাবেশ পরিচালনা করছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। রাত ৯টা ১ মিনিটে সভাস্থলের চারপাশে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। এ সময় সারজিস আলম বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে ‘সরকারের হঠকারিতা ও চক্রান্ত’ আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দেন। ছাত্রশক্তির এক নেতার বক্তব্যের পর ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক ও সভার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাজনিদ তার বক্তব্য শেষ করেন।
রাত ৯টা ৩৯ মিনিটে সভাস্থল থেকে সামান্য দূরে সাংবাদিকদের বসার স্থানের কাছে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলে লাল ও কালো কস্টেপে মোড়ানো ককটেলের ছিন্নভিন্ন অংশ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিস্ফোরণে ইমরান নামে একজনের পায়ে আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে দ্রুত এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ইমরান এনাম মেডিকেল কলেজের একজন কর্মী। তবে এনসিপির দাবি, এ ঘটনায় তাদের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
বিস্ফোরণের শব্দে সমাবেশে আসা মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করলেও মঞ্চে থাকা নেতারা দৃঢ়চেতা ছিলেন। এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং সরকারের সমালোচনা করে দীর্ঘ বক্তব্য দেন।
তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর মঞ্চে থাকা সব নেতা ও কর্মী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদ জানিয়ে সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান নেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (রাত সাড়ে ১০টা) তারা থানার সামনে বিক্ষোভ করছিলেন।












