দিনাজপুরের পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি দুষ্প্রাপ্য ও ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃত অমূল্য নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে- একটি বিশাল কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ, একটি কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি এবং একটি বেলেপাথরের মনসামূর্তি।
আজ সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে বিজিবির দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এবং স্থানীয় থানা-পুলিশের একটি যৌথ দল পার্বতীপুর উপজেলার মালিপাড়া এলাকায় প্রথম অভিযানটি পরিচালনা করে। ওই অভিযানের সময় একটি সন্দেহভাজন বাড়ি তল্লাশি করে ১৩৯ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি কষ্টিপাথরের প্রাচীন শিবলিঙ্গ উদ্ধার করা হয়।
এই অভিযানের পরপরই একই দিন ভোর ৫টার দিকে কাহারোল উপজেলার ইছাইল এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান চালায় বিজিবি। সেখানে দ্বিতীয় অভিযানে ১৩ কেজি ওজনের একটি কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি এবং ৯ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বেলেপাথরের মনসামূর্তি উদ্ধার করতে সক্ষম হন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা।
বিজিবি সূত্র জানায়, উদ্ধারের পর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মূর্তি ও শিবলিঙ্গটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তারা নিশ্চিত করেছেন যে, এগুলো অত্যন্ত প্রাচীন এবং প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। উদ্ধারকৃত এই তিনটি প্রত্নবস্তুর আনুমানিক সরকারি জব্দমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে আন্তর্জাতিক বাজার ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় এসব ঐতিহাসিক নিদর্শনের প্রকৃত মূল্য আরও অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ও ইতিহাস সংরক্ষণ এবং সীমান্ত দিয়ে প্রত্নসম্পদ পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক এমন বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনেও বিজিবি সর্বদা সর্বোচ্চ তৎপর থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।












