সমুদ্রপথে কৌশলগত সক্ষমতা জোরদারে নতুন অধ্যায় শুরু করেছে পাকিস্তান। চীনের সহায়তায় নির্মিত অত্যাধুনিক ‘হাঙর’ শ্রেণির প্রথম সাবমেরিন আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চীনের সানিয়ায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির উপস্থিতিতে সাবমেরিনটির কমিশনিং সম্পন্ন হয়। এতে পাকিস্তান ও চীনের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ধারাবাহিকতার প্রতিফলন ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
এয়ার ইনডিপেনডেন্ট প্রপালশন (এআইপি) প্রযুক্তিতে সজ্জিত এই সাবমেরিন দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করতে সক্ষম। আধুনিক সেন্সর ও অস্ত্রব্যবস্থার মাধ্যমে এটি শত্রুপক্ষের নৌযান লক্ষ্য করে নির্ভুল আঘাত হানতে পারবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চুক্তি অনুযায়ী, পাকিস্তান মোট আটটি ‘হাঙর’ শ্রেণির সাবমেরিন পাবে, যার চারটি চীনে এবং বাকি চারটি দেশেই নির্মিত হবে। ২০২২ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব সাবমেরিন সরবরাহের কথা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাবমেরিন কেবল সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নয়, বরং পাকিস্তানের সামুদ্রিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ‘সি-ডিনায়াল’ কৌশলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে দূরে রাখা এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।
১৯৭১ সালের যুদ্ধে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক ‘হাঙর’ সাবমেরিনের নামানুসারে নতুন প্রজন্মের এ ডুবোজাহাজটির নামকরণ করা হয়েছে, যা পাকিস্তানের নৌ-ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ভারত মহাসাগর ও আরব সাগর অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।














