মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে তাদের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানায় এবং সংলাপ ও কূটনীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়।
পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে জারি করা এক বিবৃতি অনুসারে, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার মার্কিন চার্জ ডি‘অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি এ বেকারের সঙ্গে এক বৈঠকে এই আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের, চলমান প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা এবং দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের একমাত্র কার্যকর উপায় হিসেবে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর পাকিস্তানের ধারাবাহিক গুরুত্বারোপের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
উপ-প্রধানমন্ত্রী দার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার’ ওপর জোর দিয়েছেন এবং উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং সংলাপ সহজতর করতে পাকিস্তানের গঠনমূলক ও ইতিবাচক ভূমিকার জন্য ওয়াশিংটনের হয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বেকার।
প্রতিবেদন বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেন।
এর আগে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা প্রথম দফার আলোচনায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, কারণ তেহরান ও ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালী এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে একমত হতে পারেনি।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে একটি যৌথ বোমা হামলা অভিযান শুরু করে।
এরপর দ্বিতীয় দফার আলোচনার মধ্যস্থতা করে পাকিস্তান যা ইসলামাবাদে বুধবার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইরানি জাহাজ আটকের ঘটনায় তেহরান আলোচনায় যোগ না দেয়ার কথা জানায়। এরপর প্রথমে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবেন না বলে ঘোষণা দিলেও পরে যুদ্ধবিরতি ইরান আলোচনায় না আসা পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প।


.












