কুমিল্লারবিবার, ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উত্তরে হাড়কাঁপানো শীত, ২০ দিনে ২৮ জনের মৃত্যু

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জানুয়ারি ১১, ২০২৬ ৪:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রতি বছরের মতো এবারও রংপুর বিভাগে শীতের তাণ্ডব শুরু হয়েছে। কনকনে শীতে পুরো বিভাগের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতজনিত রোগে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। সেইসঙ্গে বাড়ছে রোগাক্রান্ত রোগী মৃত্যুর সংখ্যা। শীতজনিত নানা রোগে ২০ দিনে মারা গেছে ২৮ জন।

পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে উত্তরের জেলাগুলোতে ঘরের বাইরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে বাসিন্দাদের। দিন ও রাতের তাপমাত্রার তারতম্য কমে এসেছে; হিমেল হাওয়া কাঁপন ধরাচ্ছে শরীরে। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষ। শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন উত্তরের ছিন্নমূলসহ তিস্তা, ধরলা ও যমুনার চর ও বাঁধে আশ্রিতরা।

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) সুত্র জানায়, শীতের তীব্রতা বাড়ায় রমেক হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে এই বিভাগের ৮ জেলা থেকে আসা শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

বিশেষ করে হাসপাতালগুলোর মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ডে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী বেড়েছে। গত ২০ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ২০ দিনে রমেক হাসপাতালে ১ হাজার ৯১৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। শীতজনিত রোগে এই ২০ দিনে মারা গেছেন ২৮ জন। এর মধ্যে মেডিসিন ও শিশু বিভাগে মারা গেছেন ১৭ জন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আশিকুর রহমান বলেন, তীব্র শীত এই অঞ্চলে। তাই শীতজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাইঁ নেই। এ কারণেই প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় রংপুর বিভাগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া একই সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি, নীলফামারীর ডিমলায় ১০ ডিগ্রি, রংপুরে ১০ দশমিক ২, কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও দিনাজপুরে ১১ দশমিক ৫, গাইবান্ধায় ১১ দশমিক ৮ এবং লালমনিরহাটে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৫ দিন রংপুর বিভাগ ও নদীর অববাহিকা এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, হিমালয় পর্বতমালা রংপুর বিভাগ থেকে কাছে হওয়ায় দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় এখানে শীত একটু বেশি অনূভূত হয়। হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে গত ২০ দিন ধরে প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কম থাকায় বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুর এলাকার কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘নদীর তীরোত (তীরে) হামার (আমার) বাড়ি। ঘরের ভেতরোত (ভেতরে) হু-হু করি বাতাস ঢোকে। আইতোত (আমাদের) থাকতে ম্যালা (অনেক) কষ্ট হয়। ঠান্ডাত বাহিরোত বের হওয়া যায় না, খ্যাতোত (খেতে) যে যামে (যাব) তার উপায় নাই।