কুমিল্লামঙ্গলবার, ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আগস্টের মাঝামাঝি জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

প্রতিবেদক
Cumilla Press
এপ্রিল ২৮, ২০২৬ ৫:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক নম্বর ইউনিটে পরমাণু জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। জ্বালানি লোডিংসহ পরীক্ষামূলক ধাপগুলো শেষে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে রূপপুর থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বর কিংবা আগামী বছরের জানুয়ারিতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট পূর্ণভাবে উৎপাদনে যেতে পারে।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে পরমাণু জ্বালানি হিসেবে দেশে যে ইউরেনিয়াম এসেম্বলি এসেছিল, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে সেগুলোই প্রবেশ করানো হয়েছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক নম্বর ইউনিটে।


আনুষ্ঠানিকতায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের নবযাত্রায় শুভ কামনা জানান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি। আর রুশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোসাটমের মহাপরিচালক এলেক্সি লিখাচ্বভ আগামীতেও বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা জানান।


এর আগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, ১৫ থেকে ২১ আগস্টের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এরপর দুই মাসের মধ্যে এটি ৫০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা যাবে। আর ডিসেম্বরের শেষ বা ২০২৭ সালের জানুয়ারির শুরুতে ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


তিনি আরও জানান, দুই ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে রূপপুর থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাবে, যা ২ কোটি মানুষের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


১৯৬১ সালে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের উদ্যোগের শুরু। রূপপুরে জমি অধিগ্রহণের কয়েক বছর পর প্রকল্পটি বাতিল করে দেয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। স্বাধীন দেশে এ নিয়ে আবার উদ্যোগ নেয়া হয়।


১৯৯৫ সালের জাতীয় জ্বালানি নীতিতে পারমাণবিক শক্তিকে একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প জ্বালানি উৎস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১১ সালে বাংলাদেশ সরকার ও রুশ ফেডারেশন সরকারের মধ্যে একটি আন্তরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।


চুক্তির আওতায় ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও রোসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জেনারেল কন্ট্রাক্ট স্বাক্ষর করা হয়। চুক্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও স্থাপন, কমিশনিং, পরীক্ষামূলক পরিচালনা, জনবলের প্রশিক্ষণ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে তিন বছরের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

.