কুমিল্লারবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষের ওপর হামলা

প্রতিবেদক
Cumilla Press
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৫ ৩:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এখনো উত্তেজনা ও সংঘর্ষ চলমান রয়েছে।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা বারোটার দিকে এই হামলা শুরু হয়। বর্তমানে কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং অন্যান্য শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।

এই হামলায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল বাসার ভূঁঞাসহ একাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, গত ১৩ জানুয়ারি কলেজের ডিগ্রি শাখার মসজিদে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই দুই পক্ষ হলেন মাওলানা সাদ ও জুবায়েরের অনুসারী। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ জানুয়ারি কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল বাসার ভূঁঞা তাবলিগ জামাতের সাপ্তাহিক তালিম সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেন।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল। গত ২১ জানুয়ারি সকাল ১১টা ২০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত কলেজের নজরুল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং ধর্মপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এরপর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে কলেজ প্রশাসন ইমাম মো. মারুফ বিল্লাহকে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে চাকরিচ্যুত করে। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি নতুন ইমাম নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ইমামকে চাকরিচ্যুত করার পর থেকেই কলেজে উত্তেজনা শুরু হয়। প্রতি শুক্রবার নামাজের সময় পূর্বের ইমামকে পুনরায় নিয়োগের দাবিতে স্থানীয় একটি পক্ষ আন্দোলন শুরু করে। এর ফলে প্রতি শুক্রবারই স্থানীয়দের সাথে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কলেজের জুমার নামাজ শুরুর আগেই স্থানীয় কিশোর ও যুবকরা কলেজ অধ্যক্ষের ওপর হামলা চালায়। তারা অধ্যক্ষের গায়ে আঘাত করে। এ সময় নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলে স্থানীয়রা তাদের ওপরও হামলা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও প্রথমে স্থানীয়দের হামলার মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরে পুলিশ আবার কলেজে প্রবেশ করে। তবে এখনও উত্তেজনা চলমান রয়েছে।

কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক গাজী মুহাম্মদ গোলাম সোহরাব হাসান জানান, হামলায় অধ্যক্ষসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, মূলত ইমামকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে ধাক্কাধাক্কির খবর পেয়ে পুলিশ গিয়েছে। তবে এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।