কুমিল্লারবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফ্যাসিজমের উত্থান হলে একুশের চেতনাই তা রুখবে: রুহুল কবির রিজভী

প্রতিবেদক
Cumilla Press
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৫ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!


ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে যদি আবার ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটে, একুশের চেতনাই তা রুখে দেবে। তিনি এ বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

রিজভী বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনা অম্লান চেতনা, এই চেতনা কোনোদিন ম্লান হবে না। যদি আবারও কোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটে, কোনো ধরনের স্বৈরাচারের উত্থান ঘটে, একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের দামাল ছেলেরা এদেশের জনগণকে আবারও রাজপথে লড়াইয়ে নামতে উদ্ধুদ্ধ করবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি যে ৫২’র একুশে ফেব্রুয়ারি যুগ যুগ ধরে আমাদের কাছে এমন একটি চেতনা, এমন একটি বৈপ্লবিক আদর্শ যা আমাদেরকে উদ্ধুদ্ধ করে, যেটাকে কখনোই ধ্বংস করা যায় না, যেটিকে কখনো ম্লান করা যায় না। একুশে ফেব্রুয়ারি যুগ যুগ ধরে পৃথিবী, মানুষ এবং আমাদের সমাজ-সংসার থাকবে ততদিন একুশ আমাদেরকে সাহস যোগাবে এবং লড়াই করতে উদ্ধুদ্ধ করবে।

রিজভী বলেন, একুশ মানে অধিকারের সংগ্রাম, একুশ মানে সাংস্কৃতিক সংগ্রামও। এটি ছিল জাতীয় স্বাধীনতার প্রথম সোপান। এই ভাষা আন্দোলনের সোপান পেরিয়ে আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে গেছি স্বাধীনতার যুদ্ধের দিকে। আমাদের মহা অর্জন আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি।

তিনি আরও বলেন, যখনই আমরা স্বৈরাচারের কবলে পড়েছি, যখন দেশে গণতন্ত্রহারা মানুষ বন্দিশালার মধ্যে বাস করেছে, তখন ৫২ আমাদের উদ্ধুদ্ধ করেছে, আমাদের প্রেরণা জাগরিত করেছে কীভাবে আমরা এই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করব।

রিজভী বলেন, একুশের প্রেরণায় আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর সংগ্রাম করেছি, অনেক নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে, ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। তাদের রক্তাক্ত পথ পেরিয়ে চূড়ান্ত যে আন্দোলন ছাত্র-জনতা যে বিপ্লব তার মধ্য দিয়ে সেই ভয়ংকর নিপীড়ক এবং রক্তপিপাসু স্বৈরাচার, ভয়ংকর দুর্নীতিবাজ সরকার তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

এর আগে ভোর সাড়ে ৬টায় নিউমার্কেটের কাছে বলাকা সিনেমা হলের সামনে থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশাল প্রভাতফেরি আজিমপুর কবরস্থানে যায় রিজভীর নেতৃত্বে। সেখানে ভাষা শহীদের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং সুরা ফাতেহা পাঠ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসে বিএনপির প্রভাতফেরি। নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে।

রিজভীর নেতৃত্বে শহীদ মিনারের বেদীতে বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, মীর সরাফত আলী সপু, আমিনুল হক, ইশরাক হোসেন, মোনায়েম মুন্না, নুরুল ইসলাম নয়নসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।