স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর নাম ঘোষণা করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এসময় সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে বৈঠকে উপস্থিত সভাপতিমণ্ডলীর তালিকায় যার নাম শীর্ষে থাকবে, তিনিই স্পিকারের আসন গ্রহণ করে অধিবেশন পরিচালনা করবেন বলে জানান তিনি।
রবিবার (৭ জুন) বিকাল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদ অধিবেশনে স্পিকারের ঘোষিত এই সভাপতিমণ্ডলীর তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছেন মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডক্টর মোহাম্মদ ওসমান ফারুক।
তালিকায় তৃতীয় সদস্য হিসেবে নাম রয়েছে বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিনের। এছাড়া নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানকে তালিকার চতুর্থ এবং চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে পঞ্চম সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
সভাপতিমণ্ডলীর নাম ঘোষণার পর স্পিকার সংসদের দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। গভীর দুঃখের সঙ্গে সংসদকে জানানো হয় যে, এরইমধ্যে দেশের ১৬ জন সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন।
সংসদীয় রীতি মেনে প্রয়াত এই সাবেক সরকারের নীতিনির্ধারক ও জননেতাদের স্মরণে শোক প্রকাশ করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও নীরবতা পালন করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যশোর থেকে নড়াইলগামী একটি যাত্রীবাহী বাস আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে পৌঁছালে সড়কে চলাচলরত একটি ইজিভ্যানকে পাশ দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। একপর্যায়ে বাসটি সড়কের পাশের ঢালে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক যাত্রী বাসের ভেতরে আটকা পড়েন। স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী ছিল। বাসটি উল্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে চিৎকার ও কান্নার রোল পড়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
নড়াইল ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার হুমায়ুন কবির জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। আহতদের প্রাথমিকভাবে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে তুলারামপুর হাইওয়ে থানার ওসি শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। বাসটি উদ্ধারের পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
স্থানীয়রা সড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতে চালকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।














