হবিগঞ্জের শাহজিবাজারে প্রায় ৮৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দীর্ঘ ছয় বছরেও উৎপাদনে যেতে পারেনি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মোট ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করা হলেও কেন্দ্রটি এখনো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় এবং ২০২০ সালের জুনে উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে কাজ বিলম্বিত হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার পরই গ্যাস টারবাইনের ব্লেড ভেঙে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে একাধিকবার মেরামত ও যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের পর পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হলেও প্রতিবারই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটি অচল হয়ে পড়ে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের এপ্রিলে আবারও টারবাইনের ব্লেড ভেঙে গেলে পুরো প্লান্ট বন্ধ হয়ে যায়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ২৪ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা থাকলেও এ পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র ৩৪ কোটি টাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। সময়মতো উৎপাদনে যেতে পারলে গত ছয় বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ পাওয়া যেত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ না হওয়ায় প্রায় ১০ শতাংশ বিল (প্রায় ৯০ কোটি টাকা) আটকে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত জটিলতা থাকলেও যেকোনো মূল্যে কেন্দ্রটি চালু করার চেষ্টা চলছে।
প্রয়োজনে সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার উদ্যোগ নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে চীনা ও মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মেরামত ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের মধ্যে কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর আশা করছে কর্তৃপক্ষ।











