কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঘূর্ণিঝড়ের পর খোলা আকাশের নিচে শত শত পরিবার

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মে ২০, ২০২৬ ১০:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গাইবান্ধায় ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে তিন উপজেলার কয়েকটি চরাঞ্চল। বসতবাড়ি হারিয়ে এখনও খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে শত শত পরিবার। তীব্র অভাব ও অর্থসংকটের কারণে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নতুন করে তৈরি করতে পারছেন না নিঃস্ব হওয়া এসব মানুষ।

সোমবার (১৮ মে) ভোররাতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার কয়েকটি চরাঞ্চলের ওপর দিয়ে এই প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যায় মানুষের সাজানো সংসার। ঘুমন্ত মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই উড়ে যায় ঘরের চালা, ভেঙে পড়ে আশ্রয়স্থল।

মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এসব পরিবার এখন কেউ খোলা মাঠে, কেউ গাছের নিচে, আবার কেউ ভাঙা ঘরের পাশেই রাত কাটাচ্ছেন। রান্নার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক পরিবারের দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে। যে যার মতো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও অর্থের অভাবে পারছেন না। কেউ কেউ ভাঙা টিন কুড়িয়ে জোড়া লাগানোর বা ধারদেনা করে অস্থায়ী আশ্রয় বানানোর চেষ্টা করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদর উপজেলার কামারজানী ইউনিয়নের চর খারজানী, ফুলছড়ির ফজলুপুর ইউনিয়ন, এড়েন্ডাবাড়ির বুলবুলির চর ও চর চৌমোহনী এবং সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়াসহ বেশ কয়েকটি চরাঞ্চল।
কামারজানী ইউনিয়নের চর খারজানীর বাসিন্দা রহিমা বেগম সেই রাতের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘বাতাস ও বৃষ্টি হচ্ছিল। এর মধ্যেই হঠাৎ বিকট শব্দে একটি গরম বাতাস বয়ে যায়। মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যায় সবকিছু।’

একই চরের বাসিন্দা আলিমুদ্দিন বলেন, ‘খুব বেশি হলে ৫ থেকে ৭ মিনিটের বাতাসে সব শেষ হয়ে যায়। অর্থ না থাকায় এখনও অনেক মানুষ তাদের বাড়িঘর ঠিক করতে পারছেন না। রোদ-বৃষ্টিতে পুড়ে তাদের দিন কাটছে। সরকারিভাবে ঢেউটিন দেয়া হলে এসব পরিবার অন্তত মাথা গুঁজে থাকতে পারত।’

সার্বিক বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত সুন্দরগঞ্জের ৫০০ পরিবার, সদর উপজেলার কামারজানী ইউনিয়নে ৪২ পরিবার এবং ফুলছড়ি উপজেলায় তিন শতাধিক পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বাকিদের তালিকা তৈরির কাজও চলছে।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের মাঝে ইতোমধ্যে শুকনো খাবার ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। তাদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় কাজ চলমান রয়েছে।