কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্পনগরীতে নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ! স্থানীয়দের বাঁধা!

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মে ২১, ২০২৬ ৯:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্পনগরী উন্নয়ন প্রকল্পে ভাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় আশ-পাশের মানুষ ও শিল্প মালিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরেজমিন তদন্ত করেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ বিসিক শিল্প মালিকদের।

জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্পনগরীর উন্নয়নে রাস্তা, ড্রেন ও ভাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণে গত ১৫ জানুয়ারি ১ কোটি ৫৬ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫৫০ টাকায় নির্মাণকাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আসিফ এন্টারপ্রাইজ।

২ ফেব্রুয়ারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ শুরু করে দীর্ঘ ৪ মাসেও শেষ করেনি। নির্মাণকাজ চলাকালিন ভাউন্ডারী দেয়ালের পিলার নির্মাণে পরিমানমত রড, সিমেন্ট ও বালি ব্যবহার না করায় স্থানীয়রা বিসিক কর্মকর্তা জাফর আহমেদের কাছে অভিযোগ করেন। ৬ ফিটের একটি পিলার নির্মাণে ছয় ইঞ্চি পরপর একটি রিং রডসহ মোট তেরটি রিং রড দেয়ার নিয়ম থাকলেও দেয়া হয়েছে মাত্র তিনটি।

এভাবে অর্ধশতাধিক পিলার নির্মাণে রিং রড কম দেয়া হয়েছে। মৌখিক অভিযোগ পেয়ে গত মঙ্গলবার বিসিক কর্মকর্তা জাফর আহমেদ ঠিকাদার আরিফুর রহমানকে অবহিত করেন। ঠিকাদার বিষয়টি জেনে রাতেই গোপনে শ্রমিক পাঠিয়ে সেই পিলারটি মেরামতকালে স্থানীয় লোকজন চার শ্রমিককে আটক করে।

খবর পেয়ে বিসিক চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কর্মকর্তা খালেদ মাহমুদ ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য বুধবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

অভিযোগ উঠেছে, বুধবার দুপুরে হোটেল গ্রীণ ভিউতে ঠিকাদার আরিফুর রহমান, বিসিক চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কর্মকর্তা খালেদ মাহমুদ, চৌদ্দগ্রাম বিসিক কর্মকর্তা জাফর আহমেদ, বিসিক শিল্পনগরী প্লট মালিক সমিতির সভাপতি নুর হোসেন মিয়াজী, সেক্রেটারী কাজী সেলিম একসাথে দুপুরের খাবার খান। এ কারণেই বিসিক চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কর্মকর্তা খালেদ মাহমুদ কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিসিকের একটি ফ্যাক্টরীর কয়েকজন শ্রমিক বলেন, সরকার বিসিকের উন্নয়নের লক্ষ্যে ভাউন্ডরী দেয়াল, ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণ শুরু করছে। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও রড কম দিয়ে ভাউন্ডারী পিলার নির্মাণ করছে। যা বেশি দিন টিকবে না।

ইতোমধ্যে নির্মাণকাজে অনিয়ম সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আমরা চাই, সঠিকভাবে বিসিকের সকল নির্মাণ কাজ শেষ হউক। এজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোরদাবি জানাচ্ছি।

চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্পনগরী প্লট মালিক সমিতির সভাপতি নুর হোসেন মিয়াজী বলেন, উন্নয়ন কাজের অনিয়মের বিষয়ে কয়েকবার বিসিক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু কোন সাড়া না দিয়ে নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

ঠিকাদার আরিফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, শ্রমিকরা নির্মাণকাজে ভুল করেছে। আমি সেটা ঠিক করে দিচ্ছি। কিন্তু হোটেল গ্রীণ ভিউতে বুধবার দুপুরে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ একসাথে খাওয়ার পর তাঁর বক্তব্য পাল্টে যায়।

এরপর মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী নির্মাণ কাজ করেছি। কোন অনিয়ম হয়নি।

চৌদ্দগ্রাম বিসিক কর্মকর্তা জাফর আহমেদ বলেন, নির্মাণ কাজে অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে ঠিকাদার ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিসিক চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কর্মকর্তা খালেদ মাহমুদ নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেছেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনিয়মের সত্যতা পেলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নিবে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিসিক চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কর্মকর্তা খালেদ মাহমুদ বলেন, এখানে পিলার নির্মাণে কিছুটা অনিয়ম হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।