আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এই দীর্ঘ ছুটিতে ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা আরও সহজ ও যাত্রীবান্ধব করতে রেলস্টেশনগুলোয় তাৎক্ষণিক টিকিটের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এই সুখবর জানান।
রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে রেলস্টেশনগুলোয় সীমিত পরিসরে তাৎক্ষণিক টিকিটের (ইনস্ট্যান্ট টিকিট) ব্যবস্থা রাখা হবে। এর ফলে জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা শেষ মুহূর্তেও বৈধ উপায়ে টিকিট সংগ্রহ করে গন্তব্যে ফিরতে পারবেন।
টিকিট কালোবাজারি রোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, কমলাপুরসহ বড় স্টেশনগুলোয় বিনা টিকিটের কোনো যাত্রী যাতে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কালোবাজারি ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য স্টেশনের অপেক্ষার পরিবেশ ও ওয়াশরুমের মানোন্নয়ন করা হয়েছে। কোনো ট্রেন দেরিতে ছাড়লে মেসেজের মাধ্যমে যাত্রীদের আগেই তা জানিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত কোচের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, রেলের সক্ষমতা অনুযায়ী ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে। চরম চাহিদার কারণে কিছু ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডিং (দাঁড়িয়ে যাওয়ার) টিকিটও দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সক্ষমতা হয়তো ৩ শতাংশ, কিন্তু ঈদের সময় চাহিদা থাকে ১০ শতাংশের বেশি। আজ সিদ্ধান্ত নিলেই কাল নতুন ইঞ্জিন বা কোচ আনা সম্ভব নয়। তবে আমাদের যেটুকু সম্পদ রয়েছে, তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।’
ঈদযাত্রায় গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে ছুটি হলে হঠাৎ যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়, তা মোকাবিলার জন্য রেলের ক্যারেজ ও ইঞ্জিন মেরামত করে সচল রাখা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য স্টেশনে হুইলচেয়ার ও ট্রলি সার্ভিস সচল রাখা হয়েছে।
ঢাকার বিমানবন্দর রেলস্টেশনের যাত্রী ভোগান্তি কমানোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উত্তরা এখন একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রীদের চাপ অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত অপেক্ষাগার নেই। এজন্য স্টেশনটিতে নতুন একটি আধুনিক ছাউনি নির্মাণ করা হচ্ছে, যা ওয়েটিং রুমের মতো কাজ করবে। সেখানে একসঙ্গে অন্তত ২০০ যাত্রীর বসার ব্যবস্থা থাকবে।
রেলকে দেশের অন্যতম প্রধান গণপরিবহনে রূপান্তর করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি—এই তিন ধাপে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজার এবং ঢাকা-সিলেট রুটের স্টেশনগুলোর অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়াতে দ্রুত উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।













