রাজধানীর মিরপুর-গাবতলী সড়কের দারুসসালাম রোড এলাকায় প্রধান সড়কের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ বাজার। সিটি করপোরেশনের কোনো অনুমোদন ছাড়াই চলছে এই কার্যক্রম। ফলে মাত্র একটি লেন দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট ও চরম ভোগান্তি।
সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকা দেখে বোঝার উপায় নেই এটি সড়ক নাকি বাজার। তিন লেনের সড়কের দুই লেনই দোকানপাটের দখলে চলে গেছে। পাশের ফুটপাতও দখল হয়ে আছে। ফলে মাত্র একটি লেন ব্যবহার করে কোনোভাবে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা। এর ফলেই তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট ও চরম দুর্ভোগ।
দারুসসালাম রোড এলাকায় সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা এই বাজার নিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই পরিবহন চালক ও পথচারীদের। বাস চালক ও শ্রমিকরা জানান, বাজারটা একদম রাস্তার মাঝখানে চলে আসে, যার কারণে বাসগুলো চলতে অনেক সমস্যা হয়। গাড়ি ঠিকভাবে ঢোকানো যায় না। আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা জ্যামে বসে থাকতে হয়।
পথচারীরাও একই অভিযোগ করেন। তারা জানান, রাস্তায় জ্যাম তৈরি হয়, এতে চলাচলে অনেক দেরি হয়। স্কুলে বাচ্চা নিয়ে যাওয়া-আসা করতে সমস্যা হয়। রিকশা চলাচলের সময় একটার সঙ্গে আরেকটার ধাক্কা লাগে। এতে পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে এবং চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
শুধু পথচারীদের ভোগান্তিই নয়, সড়কের বিপরীত পাশে রয়েছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও ডেল্টা মেডিকেল কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়ক দখলের কারণে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও চরম ভোগান্তিতে পড়ে।
তবে এই বাজার কার ছত্রছায়ায় চলছে; এমন প্রশ্নে ব্যবসায়ীরা দায় এড়িয়ে যান। তাদের দাবি, এখানে কারও সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই, এমনকি চাঁদাবাজিও হয় না। ব্যবসায়ীরা বলেন, কাউকে কোনো টাকা-পয়সা দিতে হয় না, শুধু ময়লা পরিষ্কারের জন্য ১০ টাকা করে নেয়া হয়। বাজারটা যার যার মতো করে চলছে।
বাজারটির বৈধতা আছে কি না; তা জানতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে গেলে জানা যায়, সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা এই বাজারটির কোনো অনুমোদন নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এটি সম্পূর্ণ অবৈধ।
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানান, জনস্থানে ভোগান্তি সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অবৈধ স্থানে সিটি করপোরেশন কাউকে অনুমোদন দিতে পারে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি ফুটপাতে ব্যবসায়ীদের জন্য লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেয়ার চিন্তাভাবনাও চলছে।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, ফুটপাত ও সড়ক দখলের পেছনে শত কোটি টাকার অনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে, তাই এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ। নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব মনে করেন, ফুটপাত ও সড়ক দখলের পেছনে বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত।
তিনি আরও বলেন, লোক দেখানো অভিযান নয়, প্রয়োজন টেকসই ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ। এই অবৈধ বাজার শুধু যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে না, বরং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকটে পুরো এলাকার জনস্বাস্থ্যের ওপরও হুমকি তৈরি করছে। তাই নতুন করে পরিকল্পিত ও অংশগ্রহণমূলক সমাধান দরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া সাময়িক অভিযান দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।


.












