দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী দীর্ঘ কয়েক দশকের ‘শান্তিবাদী’ অবস্থান থেকে সরে এসে অস্ত্র রপ্তানি নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনল জাপান। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিদেশের বাজারে বিক্রির ওপর থাকা দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধ শিথিল করার নতুন নিয়ম অনুমোদন করেছে।
জাপানের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে দেশটি বিশ্বের অন্যান্য দেশে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধজাহাজ রপ্তানি করতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বলেন, বর্তমানে কোনো দেশই একা নিজের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে পারে না।
প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে এমন অংশীদার দেশ এখন সময়ের দাবি।
মূলত অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও গভীর করতেই টোকিও এই পদক্ষেপ নিয়েছে।এছাড়া অস্ত্র রপ্তানিকে জাপানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন তাকাইচি।
আগের নিয়ম অনুযায়ী, জাপান কেবল উদ্ধারকাজ, পরিবহন, নজরদারি, সতর্কবার্তা এবং মাইন অপসারণ এই পাঁচটি ক্যাটাগরির সরঞ্জাম রপ্তানি করতে পারত।তবে নতুন নীতিমালায় এই সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হয়েছে।
এখন থেকে যেকোনো ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলো। তবে প্রতিটি রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর স্ক্রিনিং বা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া পার হতে হবে। এছাড়া তৃতীয় কোনো দেশে অস্ত্র হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও থাকবে কঠোর নিয়ন্ত্রণ।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি অবশ্য আশ্বস্ত করে বলেছেন, গত ৮০ বছর ধরে আমরা যে শান্তিকামী দেশ হিসেবে চলেছি, সেই মৌলিক নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। আমরা অত্যন্ত সতর্কতা ও কঠোর বিচার-বিবেচনার মাধ্যমেই এই সরঞ্জাম হস্তান্তরের প্রক্রিয়া পরিচালনা করব।
জাপানের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়াসহ দেশটির পশ্চিমা প্রতিরক্ষা অংশীদাররা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের দেশগুলোও জাপানি প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে বরাবরের মতোই জাপানের এই সামরিক শক্তি বৃদ্ধির সমালোচনা করেছে চীন।
সমালোচকদের মতে, এই পদক্ষেপ জাপানের দীর্ঘদিনের শান্তিবাদী আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং চীনের হুমকি মোকাবিলায় জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইনের সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি ছিল।
জাপান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের সামরিক ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়ে জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করেছে। তাকাইচি সরকারের অধীনে এই ব্যয় আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত পূর্ব চীন সাগরে তাইওয়ানের নিকটবর্তী দ্বীপগুলোতে চীনা আধিপত্য মোকাবিলা এবং সম্ভাব্য হুমকি রুখতেই এই বিশাল সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে সূর্যোদয়ের দেশ জাপান।


.












