চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বালুবোঝাই একটি ভারী ট্রাকের সঙ্গে দ্রুতগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভয়াবহ ধাক্কার ঘটনা ঘটেছে। তবে ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত চৌকস গার্ড ও সাধারণ রেলকর্মীদের অসীম তৎপরতায় সময়মতো জরুরি ব্রেক বা ইমারজেন্সি ব্রেক প্রয়োগ করায় এক বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা ও নিশ্চিত প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
আজ রোববার (৭ জুন) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার রেলওয়ের ৬৬/৩ কিলোমিটার পয়েন্টের একটি অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং গেইটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি ঘটে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী ৭১৯ আপ পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি যখন জোরারগঞ্জ এলাকা পার হচ্ছিল, তখন একটি বালুবোঝাই ড্রাম্প ট্রাক হঠাৎ অরক্ষিত ক্রসিংয়ে উঠে পড়ে। এর ফলে ট্রেনের সাথে ট্রাকটির তীব্র সংঘর্ষ হয়। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পরপরই কৌশলে ট্রাকের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে রেলওয়ের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্র আরও জানায়, ট্রেনটির ইনচার্জ গার্ড শহিদুল ইসলাম রাসু এবং কন্ট্রাক্টর গার্ড মিজানুর রহমান চৌধুরী সামনে বিপদ দেখে ট্রেনের লোকোমোটিভ মাস্টারের সংকেতে এবং ট্রেনে থাকা অন্যান্য রেলকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতায় দ্রুততার সাথে ইমারজেন্সি ব্রেক প্রয়োগ করেন। তাদের এমন তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপের ফলেই ট্রেনটি বড় ধরনের লাইনচ্যুতি বা ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়।
রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিক দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই রেলওয়ে পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঠিক কী কারণে এবং কার অবহেলায় এই অরক্ষিত ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটলো এবং ক্ষক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ কত, তা নিবিড়ভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় উক্ত রেললাইনের মাধ্যমে ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে রেলওয়ের উদ্ধারকারী দল পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করে।












