কুমিল্লামঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তিন দশকে বন্ধ দেশীয় ১০ এয়ারলাইন্স, বাজেটে আসছে নতুন পরিকল্পনা?

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুন ৯, ২০২৬ ১:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

তিন দশকে বাংলাদেশে ১০টি বেসরকারি যাত্রীবাহী এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, বিমানবন্দরে বেশি চার্জ এবং সরকারি সারচার্জের চাপে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারেনি এসব প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভিয়েশন শিল্পের বিকাশে আসন্ন বাজেটে ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা প্রয়োজন।

জেট ফুয়েলের উচ্চ মূল্য, তুলনামূলক বেশি ল্যান্ডিং ও পার্কিং চার্জ এবং দীর্ঘদিন ধরে ৭২ শতাংশ সারচার্জ দেশের এভিয়েশন খাতকে চাপে ফেলেছে। ১৯৯৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এসব কারণে ১০টি বেসরকারি এয়ারলাইন্স কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে সারচার্জ কিছুটা কমানো হলেও জ্বালানি ব্যয় ও বিমানবন্দর চার্জ এখনও বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে। বর্তমানে চারটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে তাদেরও নানা ধরনের সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে আসন্ন বাজেটে নীতিগত সহায়তা চান খাতসংশ্লিষ্টরা।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা এবং খাতভিত্তিক ভর্তুকি বা সাবসিডি পেলে ইউএস-বাংলাসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্স আরও এগিয়ে যেতে পারবে।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে এভিয়েশন খাতের উন্নয়নের নানা পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও বাস্তবে অগ্রগতি সীমিত। তবে এবার সেই অবস্থার পরিবর্তন করতে চায় বিএনপি সরকার। বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, এভিয়েশন খাতকে লাভজনক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তিনি বলেন, বাজেট অধিবেশনেই এর প্রতিফলন দেখা যাবে। এই মন্ত্রণালয়কে একটি রাজস্ব আয়কারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই এবং চলতি বছর এভিয়েশন খাতে লাভের চিত্র দেখা যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন জ্বালানির যৌক্তিক মূল্য এবং কম সুদে ব্যাংক ঋণের সুবিধা। দ্যা বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, এয়ারলাইন্স শিল্প টিকিয়ে রাখতে বর্তমান কর কাঠামো কমানো এবং সহজে অর্থায়নের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ হওয়ায় এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য সময়মতো ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫টি বিদেশি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করছে। দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এ খাতের বড় একটি অংশের অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে।