কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বিদ্যালয়ের টয়লেটে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাগেশ্বরী থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে বিকেলে আদালতে পাঠানোর কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ রামখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিরতির সময় বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী টয়লেট থেকে বের হওয়ার সময় দরজা খোলা মাত্র সহকারী শিক্ষক আব্দুল মোতালেব টয়লেটে ঢুকে ছাত্রীকে টেনে ভিতরে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা চালান। এ সময় ওই ছাত্রী চিৎকার দিয়ে দৌড়ে বের হয়ে ঘটনাটি সবাইকে জানায়। ছুটির পর বাড়ি ফিরে বিষয়টি স্বজনদের জানালে তারা থানায় অভিযোগ করতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর ইসলাম ও স্থানীয় মাদরাসা শিক্ষক কাজী মোশাররফ হোসেন বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলেন।
খবর পেয়ে একাধিক গণমাধ্যমকর্মী ঘটনাস্থলে গেলে তাদের বাড়িতে যেতে দেয়নি প্রধান শিক্ষক নুর ইসলাম ও কাজী মোশাররফ হোসেন। ছাত্রীর বাবা-মা কারও সঙ্গে কথা বলবেন না বলেও জানান তারা।
পরবর্তীতে রাতে বিষয়টি কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপারকে জানানো হলে তার নির্দেশে রাত দেড়টার দিকে নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক প্রধানের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে শিক্ষক মোতালেবকে আটক করে। একই সঙ্গে ছাত্রী ও তার বাবা-মাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, প্রায় তিন মাস আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তিনি এবার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে ঘটনা প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর ইসলাম জানান, তিনি ঘটনার সর্বোচ্চ বিচার চান এবং বিষয়টি পরদিন সমাধানের কথা ভেবেছিলেন।
নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক প্রধান জানান, এ ঘটনায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং গ্রেপ্তার শিক্ষক মোতালেবকে বিকেলে আদালতে তোলা হবে।











