কুমিল্লামঙ্গলবার, ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অবশেষে স্বদেশের পথে আফগান নাগরিক হাসমতের মরদেহ

প্রতিবেদক
Cumilla Press
সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৬:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দীর্ঘ আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে দাফনের ১৪০ দিন পর ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে উত্তোলন করা হয়েছে আফগানিস্তানের নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে কবর থেকে মরদেহটি উত্তোলন করে তাঁর ছোট ভাই ইমাল মোহাম্মদীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মরদেহ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান, মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. ফারহানা তাসনিম, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহেশপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) টিপু সুলতান, নিহতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম, নিহতের ভাই ইমাল মোহাম্মদী, ঝিনাইদহ আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের দুলাল হোসেন এবং বিভিন্ন সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা।

মরদেহ হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইমাল মোহাম্মদী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বাংলাদেশ সরকার, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

 

ইমাল বলেন, ‘অসুস্থ মায়ের কাকুতি-মিনতির কারণে আমার ভাইয়ের নিথর দেহটি অন্তত নিজের দেশের মাটিতে নিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করতে পারছি—এটাই আমাদের জন্য পরম সান্ত্বনা।

দীর্ঘ প্রতীক্ষায় বাংলাদেশ সরকার ও ঝিনাইদহের স্থানীয় প্রশাসন আমাদের যে আন্তরিক সহযোগিতা করেছে, তার জন্য আমরা চিরকৃতজ্ঞ।’

নিহতের বাংলাদেশি আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম বলেন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সাংবাদিকদের জোরালো সংবাদ প্রকাশ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বিষয়টি দ্রুত দাপ্তরিক গুরুত্ব পেয়েছে।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান বলেন, ‘আইনি সব নিয়মকানুন মেনে এবং প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে তাঁর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তসংলগ্ন ইছামতী নদী থেকে হাসমত মোহাম্মদীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজে তাঁর পরিচয়ের কোনো মিল না পাওয়ায় ১৪ এপ্রিল আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে তাঁকে বেওয়ারিশ হিসেবে ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত মরদেহের ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা হাসমত মোহাম্মদীকে শনাক্ত করেন। এরপর তাঁর মরদেহ স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশে আসেন ছোট ভাই ইমাল মোহাম্মদী।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ৫৮ দিন বাংলাদেশে অবস্থান করেন ইমাল।শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র পাওয়ার পর মঙ্গলবার দাফনের ১৪০ দিন পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে মরদেহ নিয়ে আফগানিস্তানের উদ্দেশে রওনা হন তাঁর স্বজনেরা।