কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে কাজী ইউসুফ হোসেন (৪৫) নামে এক জামায়াতকর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার সকালে উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের আমজাদের বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইউসুফ কনকাপৈত গ্রামের মৃত ইজ্জত আলীর ছেলে। তিনি ইসলামী সংগীতশিল্পীও ছিলেন।
নিহাতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার কনকাপৈত স্কুল মাঠে ট্রাক্টর থেকে বালু ওঠানো-নামানো নিয়ে ইউসুফের সঙ্গে আমজাদের বাজারের ফারিহা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদের প্রতিষ্ঠানের এক ট্রাক্টরচালকের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় আবুল কালাম ইউসুফকে আমজাদের বাজার এলাকায় যেতে নিষেধ করে হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আজ সকালে ইউসুফ ওই বাজারে গেলে আবুল কালামের লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এলোপাতাড়ি মারধরে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত কয়েকজন তাঁকে রক্ষার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে স্বজনরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ইউসুফ হোসেনকে জরুরি বিভাগে আনা হলে তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লায় পাঠানো হয়। পরে তিনি কুমিল্লায় নেওয়ার পথে মারা গেছেন বলে জানতে পারেন।
ঘটনার পর থেকে আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর লোকজন আত্মগোপনে থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন সমকালকে বলেন, ইউসুফ তাঁদের দলের কর্মী ছিলেন। প্রকাশ্যে মারধরের শিকার হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁরা জেনেছেন। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।












