কুমিল্লাশনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাবার বাড়ি থেকে নাশতা কম দেওয়ায় শ্বশুরবাড়িতে মারধর, ৯ দিন পর অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু

প্রতিবেদক
Cumilla Press
অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাবার বাড়ি থেকে নাশতা কম দেওয়ায় শ্বশুরবাড়িতে মারধরের শিকার হওয়ার ৯ দিন পর মারা গেছেন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সিফাতুন নূর। গত ১৪ অক্টোবর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের দাবি, সিফাতুন নূর তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভা এলাকায়। প্রায় চার মাস আগে পটিয়ার পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের দুবাইপ্রবাসী তারেকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় চন্দনাইশের মেয়ে সিফাতুনের।

অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে সিফাতুনকে নির্যাতন করা হচ্ছিল। ঘটনার দিন নাশতা কম দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রথমে তার মা ও শাশুড়ির মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা মারধরে গড়ায় বলে দাবি পরিবারের। এ ঘটনায় নিহতের বাবার করা মামলার পর তার শাশুড়ি রিজিয়া বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। তবে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত অন্যরা পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার দিন ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে সিফাতুন নূর ও তার মায়ের সঙ্গে শাশুড়ির ধস্তাধস্তির দৃশ্য বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ফুটেজে ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি দেখা যায় বলে জানিয়েছে পরিবার। কিছুক্ষণ পর মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে—এমন বিলাপ করতে শোনা যায় তার মাকে।

এর প্রায় এক ঘণ্টা পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সিফাতুনকে বাড়ি থেকে বের করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজর আইসিইউ ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের ভাষ্য, ঘটনার রাতে সিফাতুনের জন্য নাশতা নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান তার মা। তবে নাশতা কম আনা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে শাশুড়ি তাদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে দাবি স্বজনদের।

নিহতের এক স্বজন অভিযোগ করে বলেন, শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা জিনিস দাবি করা হতো। তিনি বলেন, “দুইটা কলসি দিছি, কয় আরেকটা কলসি। ফার্নিচার দিছি, কয় আরেকটা আলমারি দিতে কয়। এই ধরনের চাওয়ার কোনো শেষ নাই। ৪০০ নাশতা নিয়াও তাদের মন ভরে নাই।”

ওই স্বজনের আরও অভিযোগ, ঘটনার রাতে ফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে পরিকল্পনা করে তার মেয়েকে নির্যাতন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিফাতুনের মৃত্যুর পর তার স্বামীর পক্ষ থেকে আত্মহত্যার দাবি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। তবে এ দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের ভাষ্য, সিফাতুন নিজেই আত্মহত্যা করলে তাকে এভাবে হাসপাতালে ৯ দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকতে হতো কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

নিহতের এক স্বজন বলেন, “মেয়ের জামাই বলতেছে, উনি নিজে নিজে সুইসাইড করছে। মেয়ে যদি নিজে নিজে সুইসাইড করতো, তাহলে এতগুলা করার দরকার নাই, উনি ফাঁসিতে ঝুলে মরে যাইতো। উনি ১০ দিন কীভাবে বেঁচে থাকল আইসিইউতে? উনাকে ঝুলানো হয়েছে, এটা একটা নাটক সাজানো হচ্ছে।”

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক টেলিফোনে বলেন, তাদের মধ্যে পারিবারিক মনোমালিন্য ছিল। একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ গতকাল পাওয়া গেছে। আগে-পরে আঘাত করা হয়েছে কিনা, তা চিকিৎসকের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলা যাবে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।