আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সারজিস আলমকে বহিষ্কার এবং হাসনাত আব্দুল্লাহকে শোকজ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তাঁর দাবি, তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তাঁদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন রাশেদ খান। পোস্টে তিনি ‘নেত্র নিউজ’-এর একটি প্রতিবেদনও শেয়ার করেন।
পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। ওই দিন আন্দোলনে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আব্দুল কাদেরের নেতৃত্বে উত্থাপিত ৯ দফা দাবিকে বাধাগ্রস্ত করতে ৮ দফা কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খান। তাঁর ভাষ্য, ওই সময় আন্দোলনের দাবির পক্ষে অবস্থান না নিয়ে সারজিস ও হাসনাতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
রাশেদ খানের আরও দাবি, সেদিন হাসনাত আব্দুল্লাহ ফোন করে হাসিব আল ইসলামকে মেস থেকে নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে যান। অন্যদেরও ওই বৈঠকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন সেই বৈঠকে অংশ নেননি।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান অভিযোগ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনের দাবির বিরোধিতা করার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই সময় যাঁরা আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাঁদের ভূমিকা ইতিহাসে যথাযথভাবে মূল্যায়িত হওয়া প্রয়োজন।
রাশেদ খান তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, সারজিস আলমকে বহিষ্কার এবং হাসনাত আব্দুল্লাহকে শোকজ করার তথ্য ‘নেত্র নিউজ’-এর প্রতিবেদনেও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
তবে রাশেদ খানের এসব অভিযোগের বিষয়ে সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও নাহিদ ইসলামের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাইও করা সম্ভব হয়নি।











