স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না সৌদি আরবপ্রবাসী ইয়াছিন আহমেদের (২৭)। ফেরার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড এলাকায় মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মিতু বেগম (২১) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোডের মালিহাতা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর মাদ্রাসা মাঠে ইয়াছিনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কমলপুর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
নিহত ইয়াছিন ভৈরব শহরের কমলপুর মুসলিমের মোড় এলাকার পূবালী ব্যাংক ভবনের মালিক প্রয়াত বাক্কী মিয়ার ছেলে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে। স্থানীয়রা আহত স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি বলেন, বিশ্বরোডের মালিহাতা এলাকায় একটি অজ্ঞাত ট্রাকের পেছনে মোটরসাইকেলটি ধাক্কা দেয়। মোটরসাইকেলটি দ্রুতগতিতে থাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
নিহতের চাচাতো ভাই ওমর আহমেদ জানান, প্রায় ১৭ মাস আগে সৌদি আরবে যান ইয়াছিন। গত ২৪ জুলাই তিনি দেশে ফেরেন। সেখানে ফুড ডেলিভারির কাজ করতেন। পরিবারের একমাত্র ছেলে ইয়াছিনের দুই বোন রয়েছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে তুলি বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের দুই বছরের ছেলে আলিফ রয়েছে।
ওমর আহমেদ বলেন, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে শিশু সন্তানকে বাড়িতে রেখে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে তিতাস নদীসংলগ্ন মিনি কক্সবাজার এলাকায় ঘুরতে যান ইয়াছিন। সেখান থেকে ফেরার পথে সন্ধ্যায় বিশ্বরোডের মালিহাতা এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা।
তিনি বলেন, বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় ইয়াছিনের মুঠোফোনে কল করা হয়। তখন ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয়রা ফোনটি ধরে দুর্ঘটনার খবর জানান। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইয়াছিন মারা যান। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল থেকে তাঁর মরদেহ ভৈরবে নিয়ে আসা হয়।
ইয়াছিনের স্ত্রী তুলি বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তাঁর স্বজনরা।
ইয়াছিনের পরিবার জানায়, আগামী ১৭ অক্টোবর সৌদি আরবে ফেরার কথা ছিল তাঁর। এ জন্য ফিরতি টিকিটও করা হয়েছিল। এর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।












