রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ভাটারা এলাকায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এক নবদম্পতি ও তাদের সঙ্গে থাকা আট বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তিন দিনের ব্যবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আনোয়ার হোসেন শাহিন, তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তার এবং ফাহিমার ভাগনি হাফসা। এ মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই পরিবারে।
জানা গেছে, গত ২১ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উত্তর বাড্ডার ভাটারা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাসার দুটি কক্ষে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর দেবিদ্বার উপজেলার ৯ নম্বর গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গুরী গ্রামের মীর্জা আলী ব্যাপারী বাড়ির আনোয়ার হোসেন শাহিনের সঙ্গে দেবিদ্বার গোমতী আবাসিক এলাকার গোলাম হোসেনের ছোট মেয়ে ফাহিমা আক্তারের বিয়ে হয়। প্রায় দেড় মাস আগে জীবিকার তাগিদে তারা উত্তর বাড্ডার ভাটারা এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন। তাদের সঙ্গে ঢাকায় যায় ফাহিমার বড় বোনের আট বছরের মেয়ে হাফসা, যে সেখানে থেকে পড়াশোনা করছিল।
ফাহিমা জাফরগঞ্জ মীর আব্দুল গফুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি কেক তৈরি ও পোশাক বিক্রিসহ অনলাইন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আর শাহিন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান শাহিন। শুক্রবার মারা যায় শিশু হাফসা। সর্বশেষ শনিবার সন্ধ্যায় শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন ফাহিমার মৃত্যু হয়। তাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি নবগঠিত সংসার এবং একটি শিশুর ভবিষ্যৎ একসঙ্গে নিভে যায়।
শুক্রবার হাফসাকে দেবিদ্বারের সুলতানপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। শাহিনকে দাফন করা হয় বাঙ্গুরী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে। রোববার সকালে গোমতী আবাসিক এলাকার চানমিয়া মার্কেট মাঠে ফাহিমার জানাজা শেষে স্বামীর পাশেই তাকে দাফন করা হয়।
মেয়েকে হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফাহিমার বাবা গোলাম হোসেন বলেন, বাসায় ওঠার পরপরই আমরা বাড়ির মালিককে গ্যাস লিকেজের বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে আজ আমার মেয়েটা বেঁচে থাকত। অবহেলার কারণেই আমার মেয়েকে হারালাম। আমি এই অবহেলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, মেয়ের সঙ্গে আমার বড় মেয়ের ঘরের সন্তান হাফসাও ঢাকায় গিয়েছিল। ওদের একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সামান্য অবহেলা ও অসাবধানতায় মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল।












