মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার পারদ আরও চড়িয়ে এবার সরাসরি বাহরাইন ও কুয়েতের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরান। গতকাল শনিবার ভোরে চালানো ইরানের এই আকস্মিক হামলার বেশির ভাগই মাঝ আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে বাহরাইন সরকার। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই হামলার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
আক্রমণের পর ইরান এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বানিয়েই এই হামলা চালানো হয়েছে। তেহরান আরও স্পষ্ট করেছে যে, এর আগে ইরানের কেশম দ্বীপ ও সিরিক এলাকার সামরিক নজরদারি স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র যে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছিল, তা ছিল মূলত দুই পক্ষের মধ্যকার চলমান একতরফা যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন। ফলে মার্কিন সেই উস্কানিমূলক আগ্রাসনের পাল্টা জবাব দিতেই এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাহরাইন প্রশাসন ইরানকে অবিলম্বে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে এমন উস্কানিমূলক সামরিক হামলা বন্ধের জোর আহ্বান জানিয়েছে। হঠাৎ করে শুরু হওয়া নতুন এই সংঘর্ষের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নাজুক ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি আরও বেশি চরম চাপের মুখে পড়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই পাল্টা আঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ও মার্কিন মিত্র দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা বড় ধরনের হুমকিতে পড়ল। এর আগে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরের নিকটবর্তী সিরিক ও কেশম দ্বীপে মার্কিন ড্রোন হামলার পর থেকেই ইরান চরম প্রতিশোধের হুমকি দিয়ে আসছিল। শনিবার ভোরের এই জোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মূলত তারই প্রতিফলন। এই হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইন জুড়ে সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি রাখছে।












