মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে গ্রাম আদালতের এক সালিশ বৈঠকে যুবদল নেতাকে মারধর এবং পরবর্তীতে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিবের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে উপজেলার চালা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের বারান্দায় একটি পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালতের সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সালিশ চলাকালে কয়েকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উপজেলা যুবদলের সদস্য কাজী সালাউদ্দিন শিমুল মারধরের শিকার হন।
চালা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল বাসেদ জানান, পারিবারিক বিষয় নিয়ে চলমান বৈঠকে হঠাৎ উত্তেজনা সৃষ্টি হলে কয়েকজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে কাজী সালাউদ্দিন শিমুল বাদী হয়ে হরিরামপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবু সাদাত শাহিন (মোল্লা শাহিন), কাইয়ূম মোল্লা, মিশন চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কবির হোসেন বুলবুলসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সালিশ বৈঠকের ঘটনার জেরে বুধবার রাতেই উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবু সাদাত শাহিনের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে তিনি বাদী হয়ে হরিরামপুর থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিকুজ্জামান শিপু, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি শাকিল মোল্লা, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দীনসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হরিরামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. এমদাদুল হক জানান, ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি সজলকে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, গ্রাম আদালতের সালিশ বৈঠকে মারধর এবং পরবর্তীতে কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।














