কুমিল্লারবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুমিল্লায় ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতালে স্বজনদের ভাঙচুর

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মার্চ ১৭, ২০২৫ ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!


স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১৬ মার্চ) রাতে কুমিল্লা নগরীর ট্রমা হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নিহতের পরিবার ভুল চিকিৎসার দাবি তুলে হাসপাতালের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা পালিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত ইমরান হোসেন (২১) কুমিল্লা নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ডের ২য় মুরাদপুর এলাকার দুবাই প্রবাসী হুমায়ুন মিয়ার ছেলে। নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ইমরান দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিল। পরে কুমিল্লা নগরীর ট্রমা হাসপাতালে ডা. আতাউর রহমানের কাছে চিকিৎসা নিতে এলে চিকিৎসক তাকে সার্জারির পরামর্শ দেন। শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকাল ৮টায় তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। চার ঘণ্টার অপারেশনের কথা বলা হলেও সাত ঘণ্টা পর অপারেশন শেষ হয়। অপারেশনের পর ইমরানের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।

রবিবার বিকালে ইমরানের কোনো সাড়া না পেয়ে তার পরিবার মৃত্যুর দাবি করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখার কথা বলে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। বরং রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ কিনতে পরিবারকে ব্যস্ত রাখে। নিহতের চাচা জাকির হোসেন বলেন, “তারা প্রথমে সামান্য অপারেশনের কথা বলেছিল, কিন্তু সাত ঘণ্টা ধরে অপারেশন চালায়। পরে সমস্যা দেখা দিলে লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার কথা বলে। আমরা রাজি হই, কিন্তু লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার পর প্রায় তিন দিন তাকে দেখতে দেওয়া হয়নি। পরে আইসিইউতে গিয়ে দেখি সে মারা গেছে। তারপরও তারা মৃতদেহের চিকিৎসা চালিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ কিনতে বাধ্য করে। তারা ২৫ হাজার টাকার অপারেশনের কথা বলে সাড়ে তিন লাখ টাকা নেয়। একজন রোগীর তিন দিনে লাখ টাকার ওষুধ কীভাবে লাগে? তাদের অবহেলায় আমাদের রোগী মারা গেছে। আমরা এর বিচার চাই।”

ইমরানের মা নাজমা বেগম বলেন, “ডা. আতাউর রহমান শুক্রবার সকাল ৮টায় আমার ছেলের অপারেশন করে। সে রবিবার বিকাল ৫টায় মারা যায়, কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা আমাদের জানায়নি। রাতে আমরা মৃত্যুর খবর পাই। মারা যাওয়ার পরও তারা ওষুধ কিনতে বলেছিল। আমরা মৃত্যুর দাবি করার পর ওষুধ ফেরত পাঠায়। এ ঘটনা রাত ৯টায় ঘটে। ডাক্তাররা আমাদের সঙ্গে কথা বলতেও রাজি হয়নি। তারা আমার ছেলেকে অবহেলায় মেরে ফেলেছে। তারা বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলে টাকা নিয়েছে, কিন্তু একবারও বলেনি যে আমার ছেলে মারা গেছে।”

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ পরিবার হাসপাতাল ভাঙচুর করে। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”