কুমিল্লারবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৫০০ অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী ফেরত পাঠাতে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মার্চ ৭, ২০২৫ ১২:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!


ডেস্ক রিপোর্ট:

যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রশাসন দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ফেরত পাঠানো শুরু করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকরাও রয়েছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশের কিছু নাগরিককেও ফেরত পাঠানো হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার কারণে বাংলাদেশের প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ নাগরিককে ফেরত পাঠানোর জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। যদি তারা প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা নিতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাদের সবাইকে দেশে ফিরে আসতে হতে পারে।

ফেরত আসা নাগরিকদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দফা বৈঠক করেছে। বুধবারের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে পুলিশের বিশেষ শাখা, ইমিগ্রেশন ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইতিমধ্যে অবৈধ নাগরিকদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো শুরু করেছে। গড়ে প্রতি সপ্তাহে ৬ থেকে ৭ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, কোনো দেশে বৈধ অবস্থান ও আইনি সুরক্ষা না থাকলে অবৈধ নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, সব দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তিনি আরও বলেন, অবৈধ নাগরিকদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানালে যারা বৈধভাবে বিদেশে কাজ বা ভ্রমণে যান, তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত কিছু ভারতীয় নাগরিককে হাতকড়া পরিয়ে সামরিক বিমানে ফেরত পাঠানোর ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশের নাগরিকদের কীভাবে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ফেরত পাঠানোর জন্য চিহ্নিত ব্যক্তির যদি বাংলাদেশের বৈধ পাসপোর্ট থাকে, তাহলে তাকে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ফেরত আসা ব্যক্তির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কর্মীরাও একই ফ্লাইটে আসছেন।

কর্মকর্তা আরও জানান, যদি কোনো ব্যক্তির বৈধ পাসপোর্ট না থাকে, তাহলে তার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে জানানো হয়। মিশন প্রথমে যাচাই করে দেখে যে ব্যক্তি আসলেই বাংলাদেশের নাগরিক কিনা। যাচাইয়ে বাংলাদেশের নাগরিক প্রমাণিত হলে তাকে এককালীন ভ্রমণের পারমিট (টিপি-ট্রাভেল পারমিট) দেওয়া হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের ঢাকার বিমানবন্দরে গ্রহণ করে তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে সহযোগিতা করা হবে। বুধবার ও বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।