নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেক থেকে উদ্ধার হওয়া ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন আরাফাত হত্যা মামলার প্রায় ৯ মাস পর ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে জানা গেছে, পরকীয়ার সন্দেহ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
রোববার (১০ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন সোনারগাঁয়ের আজিম হোসাইন, সিদ্ধিরগঞ্জের ফয়সাল এবং রূপগঞ্জের নুসরাত জাহান মিম।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, নিহত ইয়াছিন আরাফাত একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত বছরের ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি। দুই দিন পর সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার মা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, নুসরাত জাহান মিমের সঙ্গে আজিম হোসাইনের দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল। তবে পারিবারিক কলহ ও সন্দেহের কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। একপর্যায়ে মিমের মেসেঞ্জারে ইয়াছিনের নাম দেখে তাকে স্ত্রীর প্রেমিক বলে সন্দেহ করতে থাকেন আজিম। যদিও পরে জানা যায়, ইয়াছিন আসলে মিমের আত্মীয়।
এই সন্দেহ থেকেই আজিম তার সহযোগীদের নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন ইয়াছিনকে কৌশলে একটি অটোরিকশায় তুলে সিদ্ধিরগঞ্জে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ লেকে ফেলে দেওয়া হয়।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার আজিম আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।












