কুমিল্লাশুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সেই ৮ শিক্ষার্থীর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ, যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুলাই ৩, ২০২৬ ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ৮ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ফরম পূরণের জন্য টাকা জমা দেয়ার পরও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। অভিযোগ উঠেছে, কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের টাকা গ্রহণ করলেও তা যথাযথভাবে জমা দেননি। ফলে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তারা।

এদিকে, চ্যানেল 24-সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন শুক্রবার (৩ জুলাই) এক টেলিকনফারেন্সে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

জানা গেছে, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি পরীক্ষা শুরুর দিন কলেজে এসে জানতে পারেন তার প্রবেশপত্র নেই। সহপাঠীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করলেও তিনি পরীক্ষা দিতে পারেননি। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাবাকে সঙ্গে নিয়ে কলেজ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি।

ইসরাত জাহান সূচি জানান, অনলাইনে ফরম পূরণে জটিলতা দেখা দিলে কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার তার ফরম পূরণ করে দেয়ার আশ্বাস দেন। এজন্য তার কাছ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করেন। পরে কয়েকদিন ধরে প্রবেশপত্র দেয়ার আশ্বাস দেয়া হলেও পরীক্ষার আগের দিন থেকেই ওই অফিস সহকারী কলেজে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে জানা যায়, তার ফরমই জমা দেয়া হয়নি। একইভাবে আরও সাতজন শিক্ষার্থীর ফরমও জমা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

এ বিষয়ে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মামুদুর রহমান জানান, চলতি বছর কলেজ থেকে ৩৭১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। প্রথমে তিনি ধারণা করেছিলেন ইসরাত জাহান সূচি ফরম পূরণই করেনি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও বোর্ডের বিধি অনুযায়ী তাকে চলতি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানো সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, ঘটনাটি জানার পর শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন একটি টেলিফোন কনফারেন্সে পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। এ সময় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মামুদুর রহমান এবং চ্যানেল ২৪-এর জেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ সরকার উপস্থিত ছিলেন

টেলিফোন কনফারেন্সে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পুলিশ সুপারকে অধ্যক্ষসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। তিনি বিশেষভাবে নির্দেশ দেন, ঘটনাটিকে সাধারণ প্রতারণার মামলা হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও জীবনের সঙ্গে জড়িত গুরুতর অপরাধ হিসেবে যথাযথ আইনি ধারায় মামলা দায়ের করতে হবে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশও দেন।

শিক্ষামন্ত্রী আরও আশ্বাস দেন, যেসব শিক্ষার্থী এ ঘটনায় একটি শিক্ষাবর্ষ হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে, তাদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি কীভাবে কমানো যায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করবে। এছাড়া তিনি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন যে, বোর্ডের অভ্যন্তরে যদি কোনো জালিয়াত চক্র বা দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধেও যেন নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয় ।