স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার সদর দক্ষিণে পূর্ববিরোধের জের ধরে অফিস থেকে ফেরার পথে সাইদুল ইসলাম নামে এক যুবককে পথরোধ করে মারধর, শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে সদর দক্ষিণে এক যুবলীগ নেতা শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে ।
এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মোঃ সাইদুল ইসলাম (৪২)। ঘটনার পর দুইদিন অতিবাহিত হলেও আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ। এমনকি ওই যুবলীগ নেতার শশুর মুঠোফোনে সাইদুল ইসলামকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ টার দিকে উপজেলার শ্রীমন্তপুর এলাকার ভুশ্চি প্লাজার সামনে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা থেকে শ্রীমন্তপুরগামী সড়কে এ ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাইদুল ইসলাম জঙ্গলপুর এলাকার বাসিন্দা । এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শরীফের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে তাকে বিভিন্ন সময় মারধরের হুমকি দিয়ে আসছিল।
এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকার সদর দক্ষিণ উপজেলায় অফিস থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে ভুশ্চি প্লাজার সামনে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া যুবলীগ নেতা শরীফ আহমেদসহ অভিযুক্তরা তার পথরোধ করেন। এ সময় তাদের হাতে লাঠিসোঁটা ও লোহার রড ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাইদুলের অভিযোগ, যুবলীগ নেতা শরীফ লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। পরে অন্য অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। এ সময় একজন তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজহারে আরও বলা হয়, হামলার সময় সাইদুলের কাঁধে থাকা ব্যাগে জমির দলিল রেজিস্ট্রির জন্য রাখা ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিল। ওই ব্যাগটি টানাহেঁচড়া করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা ও লোহার রড দিয়ে তার ব্যবহৃত সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে প্রায় ২৫ হাজার টাকার ক্ষতি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই ঘটনায় তার ব্যবহৃত রেডি নোট ইলেভেন এবং আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স মোবাইল ফোন রাস্তায় আছড়ে ভাঙচুর করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এতে আনুমানিক ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন বাদী।
এ সময় চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন হুমকি দিয়ে চলে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে আহত সাইদুল ইসলাম কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেন তিনি।
এ ঘটনার পর দুই দিন অতিবাহিত হলেও ওই যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করতে পারেনি সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ।












